
গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের গুটিয়া এলাকায় মসজিদ কমিটিতে জায়গা না পেয়ে তালা দেওয়ার হুমকি এবং এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম ও তাঁর বাবার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জালাল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক শরীফুল। হামলায় তাঁর বাম চোখে আঘাত লাগে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
শরীফুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি গুটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কমিটিতে সভাপতি পদ না পেয়ে জালাল মসজিদে তালা দেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই জালাল ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে এবং তাঁর বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার জালাল, তাঁর ভাই ইব্রাহিম ও খোকন তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলায় তিনি চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ৩ জুলাই গুটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের আহ্বায়ক কমিটির সভা চলাকালে জালাল সেখানে প্রবেশ করে নিজের নাম না থাকায় মুসল্লিদের গালিগালাজ করেন এবং নথিপত্র ছুড়ে ফেলেন। একপর্যায়ে তিনি মসজিদে তালা দেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় গত ১১ জুলাই টঙ্গী পশ্চিম থানায় জিডি করা হয়।
এদিকে, জালালের বিরুদ্ধে গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগও রয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. খায়রুন্নেছা জানান, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকলেও জালাল জোরপূর্বক সভাপতি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের গাজীপুর জেলার সাবেক সহসভাপতি সোলায়মান স্বপন বলেন, জালালের আচরণে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তাঁর বিরুদ্ধে মসজিদ কমিটিতে জায়গা না পেয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জালাল। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
হামলার বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”