
কেনিয়ায় ভয়াবহ হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনায় ইকুয়েডরের গোয়েন্দা প্রধান মিশেল সেনসি-কন্টুগি ও তার স্ত্রী স্টেফানি হলিহানসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৩ মিনিটের দিকে কেনিয়ার সাম্বুরু কাউন্টিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কেনিয়া সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (কেসিএএ) জানিয়েছে, হেলিকপ্টারটি লইসাবার একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা থেকে এওয়াসো নিয়রো নদীর দিকে পর্যটন ভ্রমণে যাচ্ছিল।
দুর্ঘটনার পর মাউন্ট ওলোলোকওয়ের বনাঞ্চলে হেলিকপ্টারটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের ছবিতে ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
কেনিয়া রেড ক্রসের সদস্যরা সেখানে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন।
নিহত মিশেল সেনসি-কন্টুগির বয়স ছিল ৪৪ বছর। ২০২৪ সালে তিনি ইকুয়েডরের স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স সেন্টারের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। তার মৃত্যুর ঘটনায় ইকুয়েডর সরকারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট গুইলেরমো লাসোও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনাকবলিত ইউরোকপ্টার ইসি১৩০ বি৪ হেলিকপ্টারটি পরিচালনা করছিল কেনিয়ার প্রতিষ্ঠান লেডি লরি হেলিকপ্টার্স।
এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি গভীর শোক প্রকাশ করে দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।
নিহত মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে এনবিসিইউনিভার্সালের সাংবাদিক হোসে আলবার্তো সুয়ারেজ ছিলেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ। এনবিসিইউনিভার্সাল এক স্মারকলিপিতে তাকে ‘গভীরভাবে সম্মানিত নেতা এবং প্রিয় বন্ধু ও সহকর্মী’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে মিয়ামির রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী রজার দুয়ার্তের নামও স্থানীয় ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমে এসেছে। তার মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে শোক জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিনিধি কার্লোস আন্তোনিও জিমেনেজ। তবে নিহত অপর চার মার্কিন নাগরিকের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে নিহতদের ছয়জন পর্যটক ও একজন পাইলট বলে জানানো হয়েছিল। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নান্ডি কাউন্টিতে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০২৪ সালে দেশটির সামরিক প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ওমন্ডি ওগোলা ১১ জন আরোহীসহ একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন। ওই দুর্ঘটনায় মাত্র দুজন বেঁচে যান। ২০২১ সালের জুনে রাজধানী নাইরোবির কাছে অবতরণের সময় একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১০ সেনা নিহত হন।
সূত্র : বিবিসি