
রাজধানী ঢাকার ভবিষ্যৎ বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন মহলের দাবি-দাওয়া ও যৌক্তিক কিছু বিষয় পর্যালোচনা করে আরও নির্ভুল ও জনবান্ধব ড্যাপ প্রণয়ন করতে চায় রাজউক। সে ক্ষেত্রে ভবনের উচ্চতা আটতলা পর্যন্ত বেঁধে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব থেকে সরে আসার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি বৈঠকের পর বিষয়টি জনসম্মুখে খোলাসা করা হতে পারে। এমন তথ্য যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে ড্যাপ প্রণয়ন সংশ্লিষ্ট রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দায়িত্বশীল সূত্র।
এদিকে ভবনের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণের এ প্রস্তাব থেকে সরে এলেও রাজউক রাজধানী ঢাকাকে যথাসম্ভব একটি মডেল রাজধানী শহরে পরিণত করতে চায়। সেজন্য বিকল্প প্রস্তাব হিসাবে একরপ্রতি জনসংখ্যার একটা বিধিনিষেধ আরোপের কথা ভাবা হচ্ছে। যেমন-প্রতি একরে কতজন লোক বসবাস করলে আধুনিক শহরের মানদণ্ড বজায় রাখা সম্ভব হবে, সে রকম কোনো নির্দেশনা ড্যাপে যুক্ত করা হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক ও নগর-পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম রোববার বলেন, ‘যাতে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মঙ্গল হয় সেসব দিক বিবেচনায় নিয়েই ড্যাপ চূড়ান্ত করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী বডি হলো ড্যাপ রিভিউ-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। আমাদের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে মন্ত্রিসভা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভবনের উচ্চতা আটতলা পর্যন্ত বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব থেকে ড্যাপ সরে আসতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা এখন এ অবস্থান থেকে সরে এসে আধুনিক শহরের অন্যতম মানদণ্ড হিসাবে একরপ্রতি কতসংখ্যক লোক থাকা উচিত, সেটির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’
সূত্র জানায়, একরপ্রতি কত লোক বসবাস করতে পারবে এমন নির্দেশনা দেওয়ার চিন্তা করছে রাজউক। মাস্টারপ্ল্যানে ভবনের কোন ইউনিটে কতজন থাকবে, সে হিসাবে নকশা অনুমোদনের মানদণ্ড হতে পারে। তবে এটাও মানতে নারাজ আবাসন খাতসংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলমগীর সামসুল আলামিন বলেন, ‘জনঘনত্ব কমানোর জন্য প্রথমে ভবনের উচ্চতা আটতলা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। সেখানে আমরা ভেটো দিয়েছি, সেটা এখন হচ্ছে না। রাজউকও আমাদের সে রকম জানিয়েছে। কিন্তু এখন আবার নতুন করে একরপ্রতি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা সেটাও মানব না।’ তিনি বলেন, ‘বিদ্যমান নীতিমালায় বিষয়টি যেভাবে আছে সেভাবে হতে হবে, এর বাইরে কোনো কিছু হলে সেটা আমরা মানব না।’
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে ঢাকা শহর ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বসবাসের উপযোগিতা হারাবে। কিছু ব্যবসায়ী মহল এবং পেশাজীবী এর বিরোধিতা করছেন। এটা একান্তই তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়। তাদের প্রস্তাবনা শহরের স্বার্থ বা সামগ্রিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ স্থান পাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একরপ্রতি ৭০-৮০ জন থেকে সর্বোচ্চ ১২০ জন মানুষের বসবাস করার কথা। কিন্তু ঢাকার উন্নয়নকৃত এলাকায় একরপ্রতি ৪০০ জন করে বসবাস করছে। নতুন এলাকায় একই জনঘনত্ব হলে ঢাকায় বসবাস করা যাবে না।’ সূত্র: যুগান্তর।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে শুরু হওয়া সংশোধিত ড্যাপের কাজ ২০১৭ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। গত বছর মার্চ মাসে চূড়ান্ত হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে সব প্রস্তুতি আটকে যায়।
ভিন্নবার্তা ডটকম/এসএস