
নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ “আমাদের সময় তেমন সুযোগ সুবিধা ছিলনা,পরবর্তী প্রজন্মকে একটু সুযোগ করে দিলে নেত্রকোনার উশুর মেয়েরা দেশকে সারা বিশে^র সামনে তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করন, এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জয়ী নেত্রকোনার মেয়ে জিন্নাত আক্তার। নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের দেয়া সংর্ব্বধনায় তিনি এসব কথা বলেন।
তার হাত ধরে দীর্ঘ ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত পদক নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। উশুর নারীদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে সেমিফাইনালে উঠে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই ক্রীড়াবিদ।
জিন্নাত নেত্রকোনা পৌর শহরের খতিবনগুয়া এলাকার মরহুম আরজ আলী ও রওশনা আক্তারের সন্তান। তার এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে আনন্দিত এবং গর্বিত তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২০তম এশিয়ান গেমসে উশু অ্যাথলেট জিন্নাত আক্তারকে সংর্ব্বধণা ও সন্মাননা স্বারক তুলে দেয়া হয়। জেলা প্রশাসকের সন্মেলনে কক্ষে জিন্নাত আক্তারের হাতে সন্মাননা স্বারক তুলে দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
এ সময় অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন,জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ হেদায়েদ উল্লা রুমিন,বাপা’র জেলা সহসভাপতি শাহাবুদ্দিন রিপন,জেলার উশু প্রশিক্ষক নাদিম আহম্মেদসহ উশু খেলোয়ারবৃন্দ জান্নাতের মা এবং পরিবারের সদসদ্যরা।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি প্রিফেকচারাল মার্শাল আর্টস হলে নারীদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণির কোয়ার্টার ফাইনালে জিন্নাতের প্রতিপক্ষ ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার থারিসা দিয়া ফ্লোরেন্তিনা। তবে নির্ধারিত ওজনসীমা পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ফলে সেমিফাইনালে উঠে পদক নিশ্চিত করেন সাতবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন জিন্নাত। এছাড়াও ছোটবেলা থেকে বহু ইভেন্টে অংশ নিয়ে অনেক পদক জয় করেছেন জিন্নাত।
নেত্রকোনার খতিবনগুয়ার সাধারণ পরিবারের সন্তান জিন্নাতের এই অর্জন শুধু তার পরিবারের নয়,পুরো জেলা তথা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। ২৬ সেপ্টেম্বর তিনি এশিয়ান গেমস থেকে পদক নিয়ে দেশে ফিরলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং উশু ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাকে উষ্ণ সংবর্ধনা ও ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়।