
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখের বাতি আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় দুই বছর আগে বিদ্যালয়টির ভবন নদীগর্ভে হারিয়ে গেলেও বন্ধ হয়নি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বর্তমানে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একটি দোচালা টিনের ঘরে চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। তবে অপরিকল্পিত ও নিচু জমিতে নির্মিত টিনের ঘরে বর্ষা, বন্যা, ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে পাঠদান করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্রের অব্যাহত ভাঙনে বিদ্যালয়টির ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে এগিয়ে আসেন এলাকাবাসী। তাঁদের সহযোগিতায় কোনো রকমে একটি দোচালা টিনের ঘরে পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অস্থায়ী এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও বন্যার পানি এবং ঝড়ো হাওয়ায় টিনের ঘরটি পাঠদানের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষা একটি মৌলিক অধিকার। অথচ নদীভাঙনকবলিত এই এলাকার কোমলমতি শিশুরা একটি স্থায়ী ও নিরাপদ বিদ্যালয় ভবনের অভাবে প্রতিনিয়ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চালু থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী অবকাঠামোর অভাব তাঁদের ভাবিয়ে তুলেছে।
দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত উপযুক্ত ও নিরাপদ স্থানে বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ পরিবেশ এবং শিক্ষার উপযুক্ত অবকাঠামো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তাঁদের মতে, নদীভাঙনের কারণে একটি বিদ্যালয়ের ভবন বিলীন হয়ে যাওয়া মানে শুধু একটি স্থাপনা হারানো নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এলাকার শিশুদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার অধিকার। তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি।
এখন এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে বিদ্যালয় ভবন হারিয়ে গেলেও যেন শিক্ষার আলো নিভে না যায়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সুখের বাতি আদর্শ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ ভবন নির্মাণ করবে—এমনটাই আশা শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর।