
মানুষ মাত্রেই ভুল করে। আমিও মানুষ। কাজেই ভুল নিশ্চয়ই আমিও করি। নিজের ভুল মানুষ অনেক সময়ে নিজে দেখতে বা ধরতে পারেনা। তাই কেউ যখন মুখে বলে বা লিখে আমার সমালোচনা করে তখন আমি তা খুব মনযোগ দিয়ে শোনার বা পড়ার চেষ্টা করি।
কখনো কখনো আমি সে-সব সমালোচনার মধ্যে ন্যায্য এবং খাঁটি কথা খুঁজে পাই। সন্ধান পাই নিরেট সত্যের। সে-সব সমালোচনা থেকে আমার নিজের ভুলটি ধরতে পারি। আমি তাদের ধন্যবাদ দিই।
আমি বুঝি এটা বন্ধুর কাজ। ভুলটা ধরিয়ে দিয়ে আমার উপকার করা হয়েছে। অবৈরী এ-সব সমালোচনা থেকে আমি নিজেকে শুধরে আরো শক্তিশালী হবার সুযোগ পাই। তবে, এমন বন্ধুসুলভ সমালোচনা আমি খুব কম পাই। আড়ালে আবডালে, পত্র-পত্রিকার নানান খুচরো লেখায় এবং সাম্প্রতিক কালে ফেসবুকে আমি আমার এমন কিছু সমালোচনার কথা শুনি বা দেখি যেগুলোকে সমালোচনা না বলে কুৎসা রটনা কিংবা হীন উদ্দেশ্যপূর্ণ মিথ্যা প্রচারণা বা বিষোদগার ছাড়া আর কোনো কিছুই বলা যায় না।
এই কুৎসা রটনাকারীদের আমি কাউকে চিনি। কাউকে চিনিনা মোটেও। আমি বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে উপকার করেছি, সুবিধা দিয়েছি, প্রমোট করেছি – এমন দু’চার জন লোককেও আমি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণায় লিপ্ত হতে দেখি।
চেনাজানা কেউ কেউ আবার ফেক পরিচয় বা বেজন্মা আইডির আড়াল নিয়েও মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়। এদের কারো উদ্দেশ্য ও মতলব আমি জানি। আবার কারোটা জানিনা। কেউ অন্যের দ্বারা প্ররোচিত বা নিয়োজিত হয়েও মিথ্যা রটনায় লিপ্ত হয়। স্রেফ ঈর্ষা, হিংসা বা বিদ্বেষের বশেও কুৎসা রটাতে নেমে যায় খুব সংকীর্ণমনা কিছু কীটতুল্য লোক। আবার রাজনৈতিক বিশেষ উদ্দেশ্যে বা কোনো লবি, গোষ্ঠী বা কোটারির হয়ে অ্যাসাইনমেন্ট নিয়েও নেমে পড়ে কখনো কেউ কেউ। এ-পক্ষের খুব নিবেদিত লোক সেজে কেউ কেউ এস্টাবলিশমেন্ট বা সরকারের হয়েও নেমে যায়। কল্পিত ও বানোয়াট গল্প ফেঁদে এরা চালাতে থাকে মিথ্যাচার। আবার কখনো কিছু সত্য ও কিছু মিথ্যা মিশিয়ে নানান ভেজাল কাহিনী এরা রটাতে থাকে।
বিশেষ বিশেষ সময়ে এই লেলিয়ে দেয়া নেড়ি কুকুরদের ঘেউ ঘেউ খুব বেড়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমি যখন তৎপর থাকি কিংবা আমার তাৎপর্যপূর্ণ লেখা ও প্রচারে যখন ক্ষমতাসীন ও তাদের দোসরেরা বিব্রত হতে থাকে ঠিক তখনই এদের ব্যক্তি-আক্রমণ ও কুৎসা রটনা বেড়ে যায়। এরা হয়তো চায়, আমি যেন এসব রটনায় বিরক্ত বোধ করি এবং এ-সবের জবাব দিতে গিয়ে যেন আমার আসল কাজ বিঘ্নিত হয়। ওদের ওই উদ্দেশ্য জানি বলেই আমি ভাড়াখাটা এসব ফালতুদের উপেক্ষা করি, তাচ্ছিল্য করি, গুরুত্ব দিই না। ওদের দিকে পালটা ঢিল না ছুঁড়ে আমি চাই ওরা খালি মাঠে একতরফা ঘেউ ঘেউ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ুক।
দৃষ্টি আকর্ষণ ও নিজের গুরুত্ব বাড়িয়ে আলোচনায় আসার মতলবে যারা এ-সব লেখে আমি তাদেরকেও কোনো জবাব না দিয়ে বাড়া ভাতে ছাই ঢেলে দিই। আমি সব কথার, সকলের কথার এবং সব সময় সব কথার জবাব দিই না। প্রয়োজনও মনে করিনা। আমি নিজেকে চিনি-জানি। বন্ধুসলভ সমালোচনার আর্শিতে নিজের ভুল-ত্রুটি সনাক্ত করতে আমি অভ্যস্ত।
আমি বিবেকের আদালতের কাঠগড়ায় নিয়মিত নিজেকে দাঁড় করিয়ে বুঝে নিই আমার নৈতিক অবস্থান। নিন্দুক ও কুৎসা রটনাকারীদেরকে আমি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক অণুজীবের চাইতে বড়ো ও ধর্তব্য কিছু মনে করিনা। সকলেরই উচিৎ, দূরত্ব বজায় রেখে এদের সংক্রমণ ও দুষণ থেকে মুক্ত থাকা। এদেরকে গণনায় এনে, এদের কথার জবাব দিতে গিয়ে আমি কখনো নিজেকে এদের পর্যায়ে নামাবো না কিংবা ওদেরকেও আমার পংক্তিতে তুলে আনবো না। মানুষ হিসেবে স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এটুকু আত্মমর্যাদাবোধ আমার আছে এবং তা আমৃত্যু থাকবেও।
লেখক : মারুফ কামাল খান সোহেল, সিনিয়র সাংবাদিক
ভিন্নবার্তা/এমএসআই