
দেশের সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিকসহ সবাইকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো নাগরিক বাদ যাবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সোমবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে ‘ইনোভেশন শোকেসিং ২০২৫-২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, উইদাউট ওয়েস্টিং এ মোমেন্ট, সমস্ত দেশকে ডিজিটালাইজেশন করতে হবে। এর মাধ্যমে আমরা চাই বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কৃষক, শ্রমিক সবাইকে এর আওতায় আসতে হবে। এটার আউটরিচ (সেবা পৌঁছে দেওয়া) মাস্ট বি অল দ্য সিটিজেনস অব বাংলাদেশ। অল দ্য সিটি— আমি যখন বলি অল দ্য সিটিজেনস, উই মিন অল দ্য সিটিজেনস। সেজন্য আপনারা বাজেটে খেয়াল করেছেন, আমাদের অ্যালোকেশনে কিন্তু এভরিবডি ওয়াজ ইনক্লুডেড, এভরিবডি, কেউ বাকি নাই। আর্টিস্ট, সিঙ্গার কেউ তো বাকি নেই। গ্রামে যে একজন— ওই যে আর্টিস্ট যারা আছে, তারাও কিন্তু বাকি নাই। এভরিবডি ইজ ইনক্লুডেড।’
তিনি বলেন, ‘এই ইনক্লুসিভনেস আপনি খালি অর্থনীতিতে আনলে হবে না। এই যে মানুষের দুয়ারে সার্ভিস পৌঁছানোর ব্যাপারে— ব্যাপার করতে হবে আপনাদের। তাহলে কিন্তু এগুলো এগোনোর কোনো সুযোগ নাই। প্রত্যেকটি মানুষকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বলেন, রাজনীতি বলেন, সমাজ বলেন— কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হলে টেকনোলজির কোনো অল্টারনেটিভ নেই এই মুহূর্তে।’
ডিজিটাল রূপান্তরে বিশ্বের শীর্ষ দেশ এস্তোনিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সেখানে সফরে রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের একটি টিম, আমাদের আইসিটি অ্যাডভাইজারসহ একটি টিম এস্তোনিয়ায় আছে। আর তারা গভর্নরসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের। অনেকে ভাববেন, এস্তোনিয়ায় কী কাজ? এস্তোনিয়া ইজ নাম্বার ওয়ান রাইট নাও ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। অ্যামেজিং! অনেকে বিশ্বাস করবেন না এটা। নাম্বার ওয়ান ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। এবং তাদেরকে সবাই ইমিউলেট করছে।’
‘আমাদের একটা টিম সেখানে গিয়েছে, আইসিটি অ্যাডভাইজার, গভর্নর এবং অন্যরা গেছে। মানে এটার গুরুত্ব এত বেশি আমরা মনে করছি এই মুহূর্তে। একটা দিনও এখানে আর নষ্ট করার নাই আমাদের সময়।’
ডিজিটাল সেবার প্রসার বাড়াতে ব্যাংক, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি বলছি, ব্যাংককে ব্যাংকারদের জিজ্ঞেস করলাম যে আপনারা সার্ভিস দিচ্ছেন, আপনাদের কত পার্সেন্ট— কতজন আপনাদের কাস্টমারের কত পার্সেন্টেজ এই সেবাটা নিচ্ছে? আমি মনে করি, এখনও এই সেবা যারা নিচ্ছে যথেষ্ট না।’
অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর প্রধানদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘দরকার হলে দুটি-তিনটি অফিসার রাখবেন যে আপনাদের কাজ হচ্ছে এটাকে কাভারেজ (অনলাইন সেবা) বাড়ানোর জন্য অ্যাসিস্ট করা। তারা এই দায়িত্বগুলো যদি পালন করে, তাহলে আপনার কাভারেজ বাড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটা গ্রাহককে আপনারা চিঠি দেন একটা। চিঠি দিতে তো অসুবিধা নেই, একটু অ্যাট্রাক্টিভ। ওই সরকারি কায়দায় চিঠি দিলে হবে না। চিঠিটা খুব অ্যাট্রাক্টিভ হতে হবে, সে দেখে বুঝতে পারবে যে এখানে তার কাজটা সে বাড়িতে বসে করতে পারবে।’
ডিজিটাল সেবার সুফল তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না বাংলাদেশের জনগণ— সে যেই হোক, তারা সরকারি অফিসে যাক, তারা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে যাক, তারা ব্যাংকে যাক কিংবা আর কোনো প্রতিষ্ঠানে যাক। … একটা দেশের কত মানুষের কত টাইম সেভিং, কত পয়সা সেভিং, অফ তেল সেভিং, ট্রান্সপোর্ট টাকা-পয়সা সেভিং— এটা বিশাল ব্যাপার। সুতরাং, ইটস অ্যান অল-ইনকমপাসিং একটা উদ্যোগ। এটাকে আমাদের বাস্তবায়িত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ইন্স্যুরেন্সের ক্লেইম পাচ্ছেন না, শেয়ারবাজারে যারা আছে তারা যারা এটাকে মিসইউজ করছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে মিসইউজ হচ্ছে। এগুলোকে যদি চেক দিতে হয়, আমাকে এটার (ডিজিটাল সেবা) ফুল ইমপ্লিমেন্টেশন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানের উদ্যোগের প্রশংসা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের উদ্যোগটা ভালো ছিল। এটা অনেকের জন্য আই-ওপেনার। তবে আমি আবারও বলছি, এই আউটরিচটা করতে হলে আপনাদের খালি একটা প্রজেক্ট করলে তো হবে না, এটার আউটরিচ যদি না হয়, তাহলে এটার বেনিফিট পাবে না।’