
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কাচাবাড়ি বানিয়াপাড়াতে অবৈধ গভীর নলকূপের ব্যবহার বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ (পাগলাপীর) এর সহযোগিতায় কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য অবৈধভাবে নেওয়া সংযোগে ভূগর্ভস্থ হতে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
অভিযোগ উঠেছে, বদরগঞ্জের কাচাবাড়ি বানিয়াপাড়াতে গভীর নলকূপের কমান্ড এরিয়াতে পানি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৮ এবং সেচ নীতিমালা না মেনেই দশ জনকে ভূগর্ভস্থ হতে পানি উত্তোলনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। সংযোগপ্রাপ্তরা হলেন- ইমরান হোসেন, ইব্রাহিম, আব্দুর রাজ্জাক, আজিজুল হক, ওয়াজেদুল হক, আলমগীর কবির, আসকর আলী, নুর নবী সরকার, ময়নাল ও মোস্তাফিজার রহমান।
এদের মধ্যে ইমরান হোসেনকে ডিটিডব্লিউ থেকে ২৫০ ফুট দূরে ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা সংলগ্ন ইলেকট্রিক পোল বা খাম্বা থেকে ১৫০০ ফুট সার্ভিস তার টেনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ ডিটিডব্লিউ থেকে ৫০০ ফুট দূরে ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা সংলগ্ন ইলেকট্রিক পোল বা খাম্বা থেকে ৭০০ ফুট সার্ভিস তার টেনে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এখানে একই মিটারে দুটি এসটিডব্লিউ চলে।
একইভাবে আব্দুর রাজ্জাককে ডিটিডব্লিউ দূরত্ব ১০০০ ফুট পাইপ লাইন থেকে ১০০ ফুট, আজিজুল হককে ৬০০ ফুট দূরত্বে, ওয়াজেদুল হককে ১২০০ ফুট পাইপ লাইন থেকে ২৫০ ফুট দূরত্বে, আলমগীর কবিরকে ১২০০ ফুট পাইপ লাইন থেকে ২০০ ফুট দূরত্বে, আসকর আলীকে ১২০০ ফুট পাইপ লাইন থেকে ৩০০ ফুট দূরত্বে, নুর নবী সরকারকে ১২০০ফুট পাইপ লাইন থেকে ৪০০ ফুট দূরত্বে, মোস্তাফিজার রহমানকে ১৩০০ ফুট পাইপ লাইন থেকে ৪০০ ফুট দূরত্বে এবং ময়নালকে ৪০০ ফুট দূরত্বে এসটিডব্লিউ-তে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় গভীর নলকূপ পরিচালনাকারী জান্নাতুল বারী বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বদরগঞ্জ অবৈধভাবে এসটিডব্লিউ সংযোগ দিয়ে ভূ-গর্ভস্থ হতে পানি উত্তোলনে সহযোগিতা করছে। এটা কোনোভাবেই নিয়মের মধ্যে পড়ে না। মূলত ডিটিডব্লিউ থেকে ১৬০০ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে সংযোগ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তা মানা হয়নি। বরং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন নিয়ম বহির্ভূত ভাবে এসটিডব্লিউ সংযোগ প্রদান করেছে।
বিএমডিএ’র সিনিয়র উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, গভীর নলকূপ বসানোর ক্ষেত্রে যে নীতিমালা রয়েছে, তা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মানেন নি। বরং কৃষিকের সাময়িক লাভ আর নিজেদের পকেট ভারী করতে গিয়ে সরকারকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। এতে করে একদিকে কৃষি কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১৮ এবং সেচ নীতিমালার ভঙ্গ হয়েছে। একই সাথে মাটির উর্বরতাও হারাচ্ছে। এই ভাবে সংযোগ না দেওয়ার জন্য রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে একাধিকবার নিষেধ করার পরও তা বন্ধ করা যায়নি। তারা অবৈধভাবে ইতোমধ্যে দশজনকে এসটিডব্লিউ সংযোগ দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হামিদুল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ভিন্নবার্তা ডটকম/প্রতিনিধি/এসএস