
চরফ্যাশন কারামাতিয়া কামিল (এম,এ) মাদ্রাসা ও সংলগ্ন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মধ্যে জমি নিয়ে চলা বিরোধে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। উভয় প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা জমির পরিমাণ দলিলে উল্লেখ থাকলেও মসজিদ কমিটির লোকেরা মাদ্রাসার জমি দখলে নিতে উঠেপড়ে লেগেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েও বিষয়টি কোনো সুরাহা হয়নি।
এদিকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও মসজিদ কমিটির মধ্যে চলা এরই বিরোধের মধ্যেই মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে গত ৩১ মে ২০২৬ সকালে মাদ্রাসার অনার্স ভবনের পশ্চিমপাশে মাদ্রাসার রেকর্ডীয় জায়গায় বাঁশের বেড়া নিয়ে দখল নেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। এতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। একইদিন রাতে মাদ্রাসার পূর্ব ও উত্তর পাশের তিনটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। এসব কক্ষের একটিতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বই রাখা আছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষ তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় সেখান থেকে কোনো বই শিক্ষার্থীদের দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদগাহ ও কবরস্থান মিলে জমির পরিমাণ রয়েছে ২২৬ শতাংশ। এর মধ্যে মসজিদের দলিলে জমি রয়েছে ৫ শতাংশ। কিন্তু মসজিদ কমিটির দখলে রয়েছে ৮ শতাংশ, কবরস্থানের জমি রয়েছে ১৫ শতাংশ, ঈদগাহের জমির পরিমাণ ১২৮ শতাংশ, আর মাদ্রাসার দলিল অনুযায়ী জমির পরিমাণ ৭৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দলিলে ৭৫ শতাংশের বেশি থাকলে মাদ্রাসার দখলীয় জমির পরিমাণ কিছুটা কম রয়েছে। অন্যদিকে মসজিদ কমিটির মূল দলিলে জমির পরিমাণ ৫ শতাংশ হলেও তারা দখলে রেখেছে ৮ শতাংশ। এরপরও মসজিদ কমিটি মাদ্রাসার জমি দখলে নিতে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে।
খবর নিয়ে জানা গেছে, মাদ্রাসার জমি দখলে নিতে মসজিদের আগের কমিটির সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলাম কবির ও ক্যাশিয়ার আতিকুর রহমান বাদী হয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল আমিনকে বিবাদী করে বরিশাল জোনাল স্যাটেলমেন্ট অফিসে ১৪০৯/২৫ একটি মিস কেস দায়ের করেন। ওই মিস কেসের শুনানির সর্বশেষ তারিখ ছিল ১২ আগস্ট ২০২৬ ইং, ওই দিন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল আমিন শুনানিতে অংশ নেন। ওই সময় শুনানি না করে বরিশাল জোনাল স্যাটেলমেন্ট অফিসার ফজলে এলাহী অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ নুরুল আমিনকে জানান এই মামলাটির শুনানি পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী কোনো তারিখ পড়েছে কি না জানতে চাইলে বরিশাল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (উপসচিব) মৃধা মো: মোজাহিদুল ইসলাম বিষয়টি সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন, শুনানির নতুন তারিখ পড়লে সেটি পেশকারের মাধ্যমে জানতে পারবেন। সেটেলমেন্ট অফিসার ফজলে এলাহীর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, গত ৬ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত মামলা শুনানি করার ক্ষমতা তার ছিল, পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় শুনানি করার সুযোগ তিনি পেয়েছেন। তিনি বলেন, অনেকগুলো মামলা রয়েছে, শুনানির জন্য পর্যায়ক্রমে নোটিশ পাঠানো হবে। নোটিশ পাওয়ার পরই পক্ষগুলো পরবর্তী শুনানির তারিখ জানতে পারবেন।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে মসজিদ ও মাদ্রাসার মধ্যে জমি নিয়ে চলা এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের স্মরণাপন্ন হন, তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানকল্পে চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেনকে দায়িত্ব দেন। তিনি উভয়পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করলেও সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
এ বিষয়ে সর্বশেষ অবস্থা জানতে চরফ্যাশন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন-এর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসা করা তার দাপ্তরিক কাজ নয়, তবুও স্থানীয় সংসদ সদস্য দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি (এমাদুল হোসেন) বেশ কয়েকবার উভয়পক্ষকে নিয়ে বসেছিলেন, কিন্তু সমাধান হয়নি। তিনি বলেন, উভয়পক্ষেরই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নেই। ফলে সমাধান হওয়া কঠিন।