
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর এর জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিলেও হাজার হাজার মানুষ সরকার বিরোধী বিক্ষোভ করছে রাস্তায়। এই ক্রমবর্ধমান সংকট কাটাতে আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য সংসদে অনুরোধ করবেন বলে জানালেন লেবানিজ প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব।
গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বৈরুত বন্দরে অজ্ঞাত কারণে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে দেড়শর বেশি মানুষ নিহত ও আহত হন প্রায় ছয় হাজার। ওই ঘটনার পেছনে প্রাথমিকভাবে বন্দরে অনিরাপদে পড়ে থাকা প্রায় ২৮ শ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটকে দায়ী করা হচ্ছে। এজন্য কাস্টমসের ১৬ কর্মকর্তাকে আটক করেছে সরকার। কিন্তু তারপরও সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশে রাস্তায় নেমেছে হাজার হাজার মানুষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে তাদের।
দুর্নীতিবাজ ও অদক্ষ নেতাদের সরাতে ব্যাপক আন্দোলন করা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সুর মেলালেন দিয়াব, ‘আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন ছাড়া এই সংকট থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারবো না। আগাম নির্বাচনের জন্য একটি খসড়া বিল করতে সোমবার আমি মন্ত্রিপরিষদের কাছে প্রস্তাব দিবো।’
গত বছরের অক্টোবরে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেন আগের সরকার প্রধান সাদ হারিরি। ফেব্রুয়ারিতে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জেতে দিয়াবের মন্ত্রিপরিষদ। ওই সময় তিনি দাবি করেন, লেবাননের গুরুতর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দায়ী ছিলেন না তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে দিয়াব সব রাজনৈতিক দলকে তাদের মতপার্থক্য একপাশে সরিয়ে রাখার অনুরোধ করেন।
২০১৮ সালের মে মাসে লেবাননে ৯ বছরে প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছিল। যদিও ওই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারেনি। দেশের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২২ সালে।