
জাতীয় কংগ্রেসের প্রায় এক বছর শেষ হতে চললো, কিন্তু এখনও চূড়ান্ত হয়নি বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের গঠনতন্ত্র। গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত না হওয়ায় ঝুলে আছে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। অন্যদিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সংগঠন থেকে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনা ঘটলেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না একটি অংশকে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী এ সংগঠনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১০ তারিখের (সেপ্টেম্বর) মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলকে। গত বছরের ২৩ নভেম্বর সংগঠনের জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে এই দুই শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে চলছে যুবলীগের কার্যক্রম। দেশব্যাপী শুদ্ধি অভিযানের প্রেক্ষাপটে জাতীয় কংগ্রেসের আগে সংগঠনের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে (ওমর ফারুক চৌধুরী) অব্যাহতি দেয়া হয়। পাশাপাশি সংগঠনটির একাধিক নেতা আটকও হন, যার প্রভাব পড়ে জাতীয় কংগ্রেসে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুবলীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে এক বছর ধরে সংগঠনের কার্যক্রম চলছে। মহানগর ও অধিকাংশ জেলা এবং উপজেলার শাখা চলছে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে। বিভিন্ন দিবসভিত্তিক কর্মসূচি পালন ছাড়া তেমন কোনো কার্যক্রম নেই।
সাংগঠনিক সূত্রে জানা গেছে, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে যুবলীগ থেকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান। ফরিদপুর ও সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের কমিটির কার্যক্রমও স্থগিত। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার অন্তর্গত ২০ নম্বর ওয়ার্ড কমিটিও স্থগিত। সবশেষ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়কসহ তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবলীগের এক নেতা বলেন, পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি নেই। ঢাকা মহানগর শাখায় ৯ বছর ধরে কমিটি নেই। সব ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে। কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া আর কেউ নেই। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার কমিটির বিষয়ে এখনও কিছু বলা হয়নি। শুদ্ধি অভিযানের কারণে কমিটি বিলম্বিত হচ্ছে।
যোগাযোগ করা হলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, ‘দিনাজপুর, ফরিদপুর বা যেকোনো জায়গার কথাই আপনি বলেন না কেন, এগুলো ব্যক্তিবিশেষের সমস্যা। ব্যক্তিগতভাবে তারা অপরাধ করেছে। পুরো সংগঠন তো অপরাধ করেনি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি থাকার পরও অনেক জায়গায় এমন সমস্যা হতেই পারে। এটা মানসিকতার সমস্যা, কমিটির বিষয় নয়।’
চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে যুবলীগের সব সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড স্থগিত থাকায় গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন সংগঠনের শীর্ষ এ নেতা।
ভিন্নবার্তা/এসআর