
মোস্তাফিজুর রহমান তারা,রৌমারী (কুড়িগ্রাম): সীমান্তঘেঁষা উপজেলা রৌমারীতে মাদক যেন এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। হাত বাড়ালেই মিলছে ফেনসিডিল, ভারতীয় মদ, গাঁজা কিংবা ইয়াবা। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও সম্প্রতি প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ফলে শুরু হয়েছে দৃশ্যমান অভিযান। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক মাদক ব্যবসায়ী।
সীমান্তজুড়ে অরক্ষিত পথ, অবারিত মাদক প্রবাহ
জেলা শহর থেকে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন রৌমারী উপজেলার প্রায় ৪০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ১০৪৭ থেকে ১০৭৯ নম্বর পিলার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা। স্থানীয়দের দাবি, এই সীমান্তপথে অর্ধশতাধিক নিরাপদ রুট দিয়ে প্রতিনিয়ত ভারত থেকে ফেনসিডিল, অফিসার চয়েস, রয়েল, মেজিক মোমেনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।
সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় বেকার যুবকদের একটি অংশ সহজ আয়ের প্রলোভনে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক কলহ ও সামাজিক অস্থিরতা বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্যের পর তৎপরতাসম্প্রতি দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর মাদক ও জুয়াবিরোধী কঠোর অবস্থানের ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নড়েচড়ে বসেছে। রৌমারীতেও শুরু হয়েছে ধারাবাহিক অভিযান। স্থানীয়রা বলছেন, “অনেক দিন পর পুলিশকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে।”
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান গতকাল সোমবার ৪মে দুপুর ২ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রৌমারী থানা পুলিশের একটি দল মির্জাপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। সাব-ইন্সপেক্টর মো. শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি আভিযানিক দল ওত পেতে থেকে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মিজাল হোসেনের পুত্র ওবায়দুল হক (৩২)-এর শোবার ঘর থেকে ভারতীয় অফিসার চয়েস ৫০০ এমএল ৮ বোতল, রয়েল ৫০০ এমএল ৮ বোতল এবং মেজিক মোমেন ১ বোতল উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
এ ঘটনায় রৌমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সচেতন মহলের প্রত্যাশাস্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান চালালে মাদকের বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ হবে না। সীমান্তে নজরদারি জোরদার, চিহ্নিত রুট বন্ধ এবং যুবসমাজের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন।
রৌমারীর সচেতন নাগরিকদের দাবি, নিয়মিত ও নিরপেক্ষ অভিযান অব্যাহত থাকলে এবং মাদক সিন্ডিকেটের মূলহোতাদের আইনের আওতায় আনা গেলে সীমান্ত উপজেলা রৌমারী আবারও শান্ত পরিবেশ ফিরে পেতে পারে।
মাদকমুক্ত রৌমারী গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।