
ভারী বর্ষণ আর জোয়ারের পানিতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সহস্রাধিক পুকুর ও ঘের থেকে প্রায় কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলসহ অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।
শুক্রবার স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক উচ্চতার জোয়ারের পানি আর ভারী বর্ষণে প্লাবিত হয়ে দুর্দশা বেড়েছে নিম্নাঞ্চলের মানুষের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তেঁতুলিয়া ও লোহালিয়া নদীর কুলবর্তী নাজিরপুর, কেশবপুর, ধুলিয়া, কাছিপাড়া এবং বগা ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম দুই দিনের বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারে ডুবে যায়।
চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার সালাম শরীফ জানান, বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে দিয়ারা কচুয়া, চরনিমদী, চরওয়াডেল, চরমিয়াজান, চরব্যারেট ও চররায়সাহেবসহ গোটা ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।
জোয়ারের পানিতে ধুলিয়া ইউনিয়নের চরবাসুদেবপাশা, মঠবাড়িয়া, নাজিরপুর ইউনিয়নের নিমদী, ধানদী, ডালিমা, কচুয়া, ছয়হিস্যা, তাতেরকাঠি, কেশবপুরের তালতলী, মমিনপুর, বাদামতলী, কালাইয়ার শৌলা, চরকালাইয়া, কনকদিয়ার ঝিলনা, কারখানা, বগা ও কাছিপাড়া এলাকায় তেঁতুলিয়া ও লোহালিয়া নদীর জোয়ারের পানিতে অন্তত ৫০ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
কেশবপুরের মাছচাষি মাসুদ বলেন, তার তিনটি মাছের ঘের জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে।
বাউফল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বলেন, সহস্রাধিক পুকুর ও ঘের থেকে মাছ ভেসে গেছে। প্রাথমিকভাবে এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া নিম্নাঞ্চলের স্যানিটেশন, আমনের বীজতলা ও সবজি খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বগা ফেরিঘাট ও নিমদী লঞ্চঘাট পন্টুনের অ্যাপ্রোচ ও গ্যাংওয়ে ডুবে যাত্রীদের ভোগান্তি বেড়েছে।
বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য গত বৃহস্পতিবার পানিবন্দি ২০০ জনকে চিড়া, গুড় ও বিস্কুট দেয়া হয়েছে। শুক্রবার ৪০০ পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে চাল ও ৮০০ পরিবারকে রান্না করা খিচুড়ি দেয়া হয়েছে।
ভিন্নবার্তা ডটকম/পিকেএইচ