
মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম):- কুড়িগ্রামের রৌমারীতে নদ-নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র আকার ধারণ করেছে নদীভাঙন। গত এক সপ্তাহের অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা, আধাপাকা ধানখেত, গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।
উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখের বাতি ও ঘুঘুমারী গ্রামে ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চোখের সামনে ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীতে বিলীন হতে দেখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সুখের বাতি গ্রামের রহিজ উদ্দিন, তোতা মিয়া ও ৭০ বছর বয়সী ইয়াকুব আলী জানান, তাঁরা জীবনে অন্তত নয়বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন। বারবার ভাঙনে বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারিয়ে তাঁরা এখন ভূমিহীন। একসময় যেখানে ছিল ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি, সেখানে এখন বইছে নদীর পানি।
একই গ্রামের ৮০ বছর বয়সী আল্লাদি খাতুনের জীবনে নদীভাঙন যেন এক অবিরাম দুর্ভোগের নাম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার বয়স ৮০ বছর। এই বয়সে আটবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছি। এখন জমিজমা বলতে আর কিছুই নেই। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়িতে ঘুরে রাত কাটাই। আমাগো নদীভাঙনের হাত থাইকা বাঁচান।”
আল্লাদি খাতুনের এই আকুতি শুধু একজন বৃদ্ধার নয়; এটি ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া অসংখ্য মানুষের বেঁচে থাকার আর্তনাদ। বারবার নদীভাঙনে তাঁদের জীবনের সঞ্চয়, আশ্রয় ও শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিচ্ছে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও অনেক পরিবার বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে। তাই ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে টেকসই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা এবং ভূমিহীনদের পুনর্বাসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।