
মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) : ভূমি সংক্রান্ত সেবা মানুষের অন্যতম মৌলিক প্রশাসনিক সেবা। জমির নামজারি, খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর, ওয়ারিশ সনদ যাচাই, রেকর্ড সংশোধন কিংবা ভূমি বিরোধের প্রাথমিক নিষ্পত্তিসহ নানা কাজে ইউনিয়ন ভূমি অফিসই সাধারণ মানুষের প্রথম ভরসাস্থল। অথচ কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে প্রায় চার মাস ধরে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার (তহসিলদার) পদ শূন্য থাকায় এসব সেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো সেবাপ্রার্থী।
প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভূমি অফিসে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনেকের নামজারি, জমাভাগ, খাজনা পরিশোধ এবং অনলাইন আবেদন নিষ্পত্তির কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। ফলে ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও মুখোমুখি হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। অতিরিক্ত দায়িত্বে অন্য কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করলেও নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সেবার গতি কমে গেছে এবং জমে আছে অসংখ্য আবেদন।
রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন ওয়াডের বাসিন্দারা জানান, জমি সংক্রান্ত একটি কাগজের জন্য বারবার অফিসে আসতে হচ্ছে। সময় ও অর্থ ব্যয় হলেও কাজ হচ্ছে না। কৃষক, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে ভূমি কর্মকর্তার অনুপস্থিতি শুধু প্রশাসনিক জটিলতাই সৃষ্টি করে না, বরং জমি সংক্রান্ত বিরোধ বৃদ্ধি, সরকারি রাজস্ব আদায়ে ব্যাঘাত এবং জনগণের মধ্যে অসন্তোষেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। শূন্য পদে দ্রুত কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব এবং ভূমি সেবাকে গতিশীল করতে দ্রুত ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করা হোক। ভূমি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এর কোনো বিকল্প নেই।
এব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলাউদ্দিন বলেন, এব্যাপারে আমার হাত নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে ডিসি মহোদয়কে অবগত করা হবে।