
মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের জাহাজের আলগা গ্রামটি আজ ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনের মুখে অস্তিত্ব সংকটে। বছরের পর বছর নদীর অব্যাহত ভাঙনে একসময়কার জনবহুল ও সমৃদ্ধ এই ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
যদিও এলাকাটি প্রশাসনিকভাবে উলিপুর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত, তবুও ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবাহে বিচ্ছিন্ন হয়ে বর্তমানে এটি কার্যত রৌমারী উপজেলার অংশের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে।
সাহেবের আলগা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টি ওয়ার্ড ইতোমধ্যেই প্রায় সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট আংশিক তিনটি ওয়ার্ড নিয়ে ইউনিয়নটি যেন উত্তাল ব্রহ্মপুত্রের মাঝখানে টিকে থাকার শেষ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জাহাজের আলগা গ্রাম। প্রায় ছয় হাজার মানুষের বসবাস এই গ্রামটিতে। চারদিক থেকে নদীর করাল গ্রাসে গ্রামটি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে এখন ব্রহ্মপুত্রের বুকের ওপর ছোট্ট একটি দ্বীপের মতো দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটি বর্ষায় নদীর গর্জন আর ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটে এখানকার মানুষের। কখন যে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি কিংবা শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে—সেই শঙ্কাই তাদের নিত্যসঙ্গী।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীর অস্তিত্ব রক্ষার দাবিতে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টায় সাহেবের আলগা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা রফিকুল ইসলামের উদ্যোগে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সর্বস্তরের এলাকাবাসী নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অবিলম্বে কার্যকর নদীশাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে জাহাজের আলগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, মাদ্রাসা, মসজিদসহ শত শত পরিবারের বাপ-দাদার ভিটেমাটি ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে হারিয়ে যাবে। এতে হাজারো মানুষ চিরতরে গৃহহীন হয়ে পড়বেন।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিবছর নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েও তারা আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান পাননি। তাই জাহাজের আলগা গ্রামকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে টেকসই নদীশাসন, স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান।
ব্রহ্মপুত্রের অবিরাম ভাঙন শুধু একটি গ্রামের মাটিই নয়, মানুষের শিকড়, ইতিহাস, স্মৃতি ও ভবিষ্যৎকেও গ্রাস করছে। তাই জাহাজের আলগার মানুষের একটাই আকুতি— “আমাদের ভিটেমাটি বাঁচান, আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা করুন।”