
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েন শিথিলকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনের সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
ঢাকার আশুলিয়ার বোট ক্লাবে ‘ধর্ষণচেষ্টা’র অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমণির দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন ডিবি তৎকালীন কর্মকর্তা সাকলায়েন শিথিল। র্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর চিত্রনায়িকা পরীমণিকে সিআইডিতে হস্তান্তর করেছিল বনানী থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে র্যাব। মামলায় পরীমণির সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়েই গণমাধ্যমে উঠে আসে গোলাম সাকলায়েন শিথিলের সঙ্গে পরীমণির ‘অন্তরঙ্গতা’র কথা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গোলাম সাকলায়েন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঢাকায় ডিবির গুলশান বিভাগে কর্মকালীন পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতা বহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের বাবা হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সাথে তার বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, পরীমনির সাথে জন্মদিন উদযাপন ও নিজের সরকারি বাসভবনে নিজ স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মতো ঘটনা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০২৩ সালের ২০ ফ্রেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩ (খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা, অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠিয়ে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। যেহেতু, তিনি ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগনামার জবাব দেন ও ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন এবং ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়। কারণ দর্শানোর জবাব, ব্যক্তিগত শুনানি এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুদণ্ড আরোপের সম্ভাবনা থাকায় আনীত অভিযোগগেুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৭(২) (ঘ) মোতাবেক ওই বছরের ৩০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁইয়ের সই করা এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ পরামর্শের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) নায়িকা পরীমনির বাসায় এডিসি গোলাম সাকলায়েন অবস্থান করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায় মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট দেখে। তাকে গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ১৩ জুন ঢাকার অদূরে সাভারের বিরুলিয়ার বোট ক্লাবের ঘটনার পর পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। মামলার পরদিনই আসামি হিসেবে ক্লাব নেতা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে ঢাকার উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হন আরও কয়েকজন সহযোগী।
ওই মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমনিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। তখনই ডিবির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরিচয় হয় পরীমনির।