
মোস্তাফিজুর রহমান তারা,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি,কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী রৌমারী উপজেলায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি পরিবার মুহূর্তেই সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে উপজেলার আমবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের বাসিন্দা ছমিজ্জামালের গোয়ালঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। গরুর মশা তাড়ানোর জন্য জ্বালানো কয়েল থেকে পাশের খড়ের স্তূপে আগুন ধরে যায়। তীব্র বাতাসের কারণে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়িতে। এতে আনিছুর, সহিদা ও ছাদের আলীর পরিবারের বসতঘরও আগুনের গ্রাসে পড়ে।
দাউ দাউ করে জ্বলা আগুনে চারটি পরিবারের চারটি রান্নাঘর, চারটি শোবার ঘর ও তিনটি গোয়ালঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া অসংখ্য হাঁস-মুরগি, প্রায় ২০ মন ধান, নগদ ৫ লাখ টাকা, ৮টি ছাগল এবং তিনটি গরু আংশিকভাবে দগ্ধ হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
ঘটনার আকস্মিকতায় পরিবারগুলোর সদস্যরা কিছুই রক্ষা করতে পারেননি। গভীর রাতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে এলাকাবাসী ছুটে এলেও ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যশস্য ও গবাদিপশুসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
একজন ক্ষতিগ্রস্ত সদস্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। কিছুই বাঁচাতে পারলাম না। এখন সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকব, কী খাব—কিছুই জানি না।”
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও সড়ক সংকটের কারণে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার আগে গাড়ি থেমে যেতে বাধ্য হয়। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে বিলম্ব হয় এবং ক্ষয়ক্ষতি বহুগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আমবাড়ি গ্রামসহ রৌমারী উপজেলার অন্তত ছয়টি ইউনিয়নের অনেক গ্রামেই এখনো দমকলের গাড়ি চলাচলের উপযোগী সড়ক নেই। এতে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়া সম্ভব হয় না।
গ্রামাঞ্চলে খড়, বাঁশ ও টিন দিয়ে নির্মিত ঘরবাড়ি এবং গোয়ালঘরে অগ্নি-নিরাপত্তার অভাব ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সামান্য অসতর্কতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, অগ্নি-সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সরবরাহ এবং গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবার সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে জরুরি ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এক রাতের আগুন কেড়ে নিয়েছে বছরের পর বছর গড়ে তোলা সহায়-সম্বল। আমবাড়ি গ্রামের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—দুর্বল অবকাঠামো ও অগ্নি-সচেতনতার অভাবে গ্রামাঞ্চলের মানুষ কতটা ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।