
মহাজাগতিক রশ্মির শক্তির উৎস সম্পর্কিত প্রচলিত মতের বাইরে নতুন একটি মত উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, মহাজাগতিক রশ্মির উৎস চৌম্বকীয় অস্থিতিশীলতা। ব্ল্যাকহোল আর নিউট্রন নক্ষত্রগুলোর চারপাশের ঘূর্ণায়মান পরিবেশে বিরাজ করে এই মহাজাগতিক রশ্মি। সূর্য থেকে যেসব তেজোময় কণা নির্গত হয় তার চেয়েও অনেক গুণ শক্তিশালী এই মহাজাগতিক রশ্মি।
সূর্যের কণা থেকে যে শক্তি উৎপন্ন হয়, সেটার তুলনায় মানুষের তৈরি লার্জ হেড্রন কলাইডারের কোনো তুলনাই চলে না। কারণ হেড্রন কলাইডারের চেয়ে সূর্য থেকে নির্গত কণার শক্তি ১০ মিলিয়ন গুণ বেশি।
প্রশ্ন হচ্ছে, এসব মহাজাগতিক কণা কোত্থেকে ভেসে আসে? বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে এটাই বিশ্বাস করতেন, চরম অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল পরিবেশে প্রচণ্ড ধাক্কা বা অভিঘাতের কারণে এসব কণা নির্গত হয়। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়, ব্ল্যাকহোল সৃষ্টির আগে যখন কোনো নক্ষত্র বিস্ফোরিত হয়, সেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণে এসব মহাজাগতিক কণা প্রবল গতিতে নির্গত হয়।
এই তত্ত্বটি বিশ্বাসযোগ্যও বটে। কিন্তু চলতি সপ্তাহে অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স নাম বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণায় ভিন্ন মেকানিজমের মাধ্যমে বিষয়টির নতুন একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয়েছে। এতে দাবি করা হয়, ম্যাগনেটিক টারবুলেন্স বা চৌম্বকীয় অস্থিতিশীলতা থেকেই এই শক্তি নির্গত হয়। গবেষকরা দেখতে পান মহাজাগতিক পরিবেশে চৌম্বকক্ষেত্রে যে কায়দায় অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হয়, সেটাই মহাজাগতিক কণাগুলোকে গতি প্রদান করে এবং এগুলো কল্পনাতীত গতিতে ছুটে চলে।
কলম্বিয়া অ্যাস্ট্রোফিজিক্স লেবরেটরির অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট লুকা কুমিসো লিখেছেন, ‘আমাদের গবেষণার ফল কাজে লাগালে নভোপদার্থবিদ আর কণা পদার্থবিদরা সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন, মহাজাগতিক রশ্মির শক্তির উৎসটা আসলে কী।’ উল্লেখ্য, সূর্য থেকে নির্গত কণার শক্তির চেয়ে মহাজাগতিক রশ্মি থেকে নির্গত কণা অনেক বেশি শক্তিশালী।
সূত্র : সায়েন্স ডেইলি.কম