
নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনা সদর উপজেলার দুর্গাশ্রম গ্রামের গার্মেন্টস কর্মী রাজন মিয়া ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য স্ত্রী মারুফা আক্তারকে নির্যাতন,শাশুরী স্থানীয় ঠাকুরাকোনা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মোছা.চাম্পা আক্তারকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়াও প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যাতিরেকেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছে রাজন। এ ঘটনায় নেত্রকোনা থানায় মামলা হলেও পুলিশ আসামিদের না ধরার অভিযোগ করে তারা। গতকাল বুধবার মামলার বাদী চাম্পা আক্তার বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
রাজন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের দুর্গাশ্রম গ্রামের মো. আবুল কাশেমের ছেলে। অন্যদিকে মারুফা আক্তার একই ইউনিয়নের প্রতিবেশী হইডহর গ্রামের অটোরিকশা চালক মো. আবদুস সাত্তারের মেয়ে।
অভিযোগ ও মামলার বিবরনে জানা গেছে,নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নের হইডহর গ্রামের আবদুস সাক্তারের মেয়ে মারুফা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকুরি করেন। পাশর্^বর্তী দুর্গাশ্রম গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে রাজন মিয়াও ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকুরী করেন। প্রায় ৪ বছর আগে পরিবারের সম্মতিক্রমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রাজন স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। এরই মধ্যে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে মোটরসাইকেল,গরু ও ফ্রিজ কিনে দেন শশুর আবদুস সাত্তার।
এরপর আরও যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীর ওপর নির্যাতন শুরু করে রাজন ও তার পরিবারের লোকজন। যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাজন ও তার লোকজন গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আবদুস সাত্তারকে নেত্রকোনা থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে রাস্তায় আটকিয়ে মারপিট করার চেষ্টা চালায়। এ সময় তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে হামলাকারীরা চলে যায়। যাওয়ার সময় সময় সুয়োগ পেলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর তাঁর মেয়ে মারুফাকে ঘরে আটকে রেখে নির্যাতন চালায় রাজন মিয়া ও তার লোকজন।
এ ঘটনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর আবদুস সাত্তার বাদী হয়ে রাজন মিয়া(২৭), মাসুম মিয়া (৩০), আবদুর রশিদ (৫০) ও রাজিব মিয়ার (২৩) বিজ্ঞ এক্্িরকিউটিভ মেজিস্ট্রেট আদালত নেত্রকোনায় মামলা করেন। পরে গত ২৭ মার্চ রাতে পুলিশ আসামিদের বাড়িতে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতে আসামি রাজন মিয়া ও তার লোকজন মারুফার বাবা আবদুস সাত্তারের ওপর হামলা চালায় এবং পিটিয়ে আহত করে। স্বামীকে বাঁচাতে চাম্পা আক্তার এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার পা ভেঙে দেয়।
এ ঘটনায় চাম্পা আক্তার বাদী হয়ে গত ৩ এপ্রিল রাজনের চাচাত ভাই মো. মাসুম মিয়া,মো.রাজিব মিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা সদর মডেল থানায় মামলা করেন। এরই মধ্যে রাজন মিয়া প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যাতিরেকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বাদী পক্ষের অভিযোগ পুলিশকে জানালেও পুলিশ আসামি ধরার ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানায় চম্পা।
রাজন মিয়ার সাথে একাধিকবার তার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি মোবাইল রিসিভ করেন নি। তবে তার মোবাইল থেকে চাচা পরিচয় দিয়ে আবদুর রাশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, থানা পুলিশ নিয়ে রাত ৩টার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় দৌড় দিতে গিয়ে চাম্পার পাও ভেঙেছে। আমাদের লোকজন কোন মারধর করেনি।
ঠাকুরাকোনা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মোছা.চাম্পা আক্তার বলেন,আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য রাজন ও তার লোকজন অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। ঘরে আটকে রেখে মারধর করেছে। পুলিশকে সাথে নিয়ে তাকে উদ্ধার করেছি। পুলিশ আসামি ধরতে গেলে পুলিশের সামনেই আমাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে। আমার স্বামীকে মারপিট করেছে। মামলা করলেও পুলিশ নানা টালবাহানা করে আসামিদের ধরছে না। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
নেত্রকোনার সদর থানার এসআই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন,প্রতিবেশী দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে মারামারি ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ওই মামলায় দুই-তিনজন আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আশা করছি ওই আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।