
অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের অজুহাত দিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করছে না ‘প্রাথমিক শিক্ষাস্তর অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীতকরণ’ এই প্রকল্পের আওতায় রসুলপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই খবরে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বার্ষিক ফলাফল বর্জন করে স্কুল অভ্যন্তরেই অবস্থান নেয়। সেই সঙ্গে তাদের অভিভাবকেরা এসে স্কুল গেটে তালা লাগিয়ে দেন।
ময়মনসিংহের নান্দাইলে রসুলপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ১৭৮টি স্কুল রয়েছে।
এই স্কুলে প্রায় ১১ বছর ধরে ভর্তি কার্যক্রম চললেও এ বছর হচ্ছে না।
প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভর্তির আশ্বাস দিলে তালা খুলে দেওয়া হয়। পরে তার উপস্থিতিতেই বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলা রসুলপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
স্থানীয় সূত্র ও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিদ্যালয়-১ অধি শাখা থেকে ৪৯১টি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু করার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে নান্দাইলের রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তালিকা ভুক্ত হয়। এর পর থেকেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিয়েই পাঠদান চলে আসছিল। খণ্ডকালীন শিক্ষক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সমন্বয়ে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণীর পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল।
কিন্তু খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বেতনভাতা নিশ্চিত করতে না পারায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই সব শিক্ষকদের বদলি আটকাতে পারেননি।
তারা আরো জানায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দিয়ে কোনোমতে পাঠদান নিলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক না দেওয়ায় হিমশিম খেতে হয়। তবে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্নের তৈরির পাশাপাশি শিক্ষকদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তারা বাড়তি পরিশ্রম করতে অনীহা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রতিবছরে বেশ কয়েকবার অবকাঠামো ও শিক্ষক চেয়ে চিঠি চালাচালি করলেও কোনো কাজে আসেনি।
কোনো ধরনের খোঁজ খবরও নেয়নি উপজেলা প্রশাসন। এ অবস্থায় একরকম বাধ্য হয়ে চলতি বছর ষষ্ঠ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করবে বলে পূর্বে জানিয়ে দেওয়া হয়। এ খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
জানা যায়, এ বছর ৪১৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পঞ্চম শ্রেণি থেকে মোট ৪৯ জন শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছে। তারা উত্তীর্ণ হলে সবাই এ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক। কিন্তু বেঁকে বসেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাদের সাফ কথা বাড়তি শিক্ষক নিয়োগ না দিলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করাবে না।
মঙ্গলবার খবর পেয়ে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দুতলা ভবনের নিচতলার গেইটে তালা ঝুলছে। ওপরে শিক্ষকরা অবরুদ্ধ। পুরো বিদ্যালয় চত্বর জুড়ে জড়ো হয়ে আছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী। ভর্তির ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তালা খোলা হবে না বলে তারা অবস্থান নেন।
খাদিজা বেগম নামের এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে মাইশা এই বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পরীক্ষা দিয়েছে। উত্তীর্ণ হলে তিনি তার মেয়েকে এখানেই ভর্তি করাতে চান। কারণ আশপাশে কোনো উচ্চ বিদ্যালয় নেই। তা ছাড়া নিম্নবিত্তের পরিবার হওয়ায় খরচ যোগাতে পারবেন না।
রসুলপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য আরো শিক্ষক প্রয়োজন। তারপরও ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাঠ নিতে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের প্রয়োজন। তা ছাড়া ১১ বছরেও কোনো অবকাঠামো তৈরি হয়নি। কেউ খোঁজ খবরও নেয়নি। এ অবস্থায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে অনীহাও প্রকাশ করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় শিক্ষক চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সমস্যার সমাধান আশ্বাস দিয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন্নেছা বলেন, বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে তালা খোলার ব্যবস্থা করেন তিনি।