
নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গার্মেন্টসকর্মী গৃহবধূকে কাঠের রুল দিয়ে গুরুতর আঘাত ও পরে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগে নিহতের স্বামী অভিযুক্ত মাশরাফি ইসলাম পিয়েল গ্রেপ্তার।
নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলার দূর্গাশ্রম গ্রামের জায়গীর হোসেন ওরফে জাকিরের মেয়ে রিমা আক্তার।
আজ বুধবার বেলা ১২টার সময় সিনিয়র সহকারী পরিচালক
মিডিয়া অফিসার অধিনায়কের পক্ষে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মেজর মীর ইশতিয়াক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান – র্যাব-১৪ এর সদর কোম্পানি এবং র্যাব-১, সিপিএসসি, পোড়াবাড়ি, গাজীপুর ক্যাম্পের দক্ষ আভিযানিক টিম মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর জেলার সদর থানার সালনা বাজার এলাকা থেকে পিয়েলকে গ্রেপ্তার করেছেন।
ঘটনার বিবরণ ও বাদীর দেয়া তথ্যে জানা যায় – নিহত ভিকটিম ও ধৃত আসামী মাশরাফি ইসলাম পিয়েল গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে উভয়ের মাঝে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে তারা দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। নিহত ভিকটিম ধৃত আসামীকে বিবাহের জন্য জোরাজোরি করে। ধৃত আসামী এজাহারনামীয় আসামীদের প্ররোচনায় বিবাহ করতে অস্বীকৃতি জানালে নিহত ভিকটিম ধৃত আসামীর বাড়িতে চলে আসে। পরবর্তীতে পারিপার্শ্বিক চাপ ও আলাপ আলোচনার মাধ্যমে ধৃত আসামী ভিকটিমকে বিবাহ করতে বাধ্য হয়। ধৃত আসামী নিহত ভিকটিমকে বিবাহ করলেও তার মাঝে ক্ষোভ রয়েই যায় এবং বিবাহিত স্ত্রীর ক্ষতিসাধন করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। পরে সুযোগ পেয়ে গত ২৫ফেব্রুয়ারি ২০২৬খ্রিঃ অনুমান সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ধৃত আসামীসহ এজাহারনামীয় আসমীরা কৌশলে ভিকটিমের ইফতারির খাবারে বিষ মিশিয়ে দেয়। ভিকটিম তা টের পেয়ে ইফতারি খেতে অনীহা প্রকাশ করলে ধৃত আসামী কাঠের রুল দিয়ে মাথায় স্বজোরে আঘাত করাসহ কিল, ঘুষি দিয়ে বিষযুক্ত খাবার জোরপূর্বক খাইয়ে দেয়। ধৃত আসামীসহ এজাহারনামীয় আসামীরা নিহত ভিকটিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এদিকে ভিকটিমের বাবা জায়গীর হোসেন ওরফে জাকির সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে আসা মাত্রই আসামীরা ভিকটিমের মরদেহ রেখে পালিয়ে যায়। ময়নমসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। পরে এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা জায়গীর হোসেন ওরফে জাকির নেত্রকোণার কেন্দুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর সদর কোম্পানি, র্যাব-১৪, ময়মনসিংহ, ছায়াতদন্তসহ পলাতক আসামীদের গ্রেপ্তারের তৎপর হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানান – গ্রেপ্তার হওয়া আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।