
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ কোটি পরিবারের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে এবং আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর আমরা যে বাজেট পেয়েছিলাম, সেটি ছিল আগের সরকারের বাজেট। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ ছিল না। তবে কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদে যে নতুন বাজেট উপস্থাপন করেছি, সেখানে এ কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা প্রথমে গ্রামের খেটে খাওয়া, অসহায় ও দুস্থ পরিবারগুলোর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। আগামী এক বছরে ৪১ লাখ পরিবার এই সুবিধা পাবে। এরপর ধাপে ধাপে আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ। সে হিসেবে প্রতিটি উপজেলায় গড়ে প্রায় সাত হাজার পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় আসবে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হোক। বিএনপি বিশ্বাস করে, নারীদের শুধু শিক্ষিত করলেই হবে না, অর্থনৈতিকভাবেও সক্ষম করে তুলতে হবে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার মেয়েদের প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছিল। এবার আমরা নারীদের জন্য অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা নিয়েছি। শুধু তাই নয়, যারা ভালো ফলাফল করবে তাদের জন্য বৃত্তিরও ব্যবস্থা করা হবে ইনশাআল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন বিএনপি সরকারের প্রয়োজন। জনগণ পাশে থাকলে ধীরে ধীরে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের চার মাস পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এদিনই প্রথমবারের মতো বরিশাল সফরে আসেন তারেক রহমান। সফরকে ঘিরে বরিশালজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। সফরের শুরুতে গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের সরিকল-বাটাজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে একযোগে আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
পরে বরিশাল নগরের কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী ত্রিশ গোডাউন এলাকার বধ্যভূমি সংলগ্ন সাগরদী খালপাড়ে দ্বিতীয় দফায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে তিনি জিআই স্বীকৃত বরিশালের আমড়া ও নারিকেল গাছের চারা রোপণ করবেন। পাশাপাশি খালপাড়জুড়ে শতাধিক ফলজ, বনজ ও ফুলের গাছ রোপণ করা হবে।
বিকেলে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, বরিশাল সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।