
নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আভ্যন্তরীণ কোন্দলে সাংবাদিক সমিতির তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন সদ্য সাবেক সভাপতি ওয়ালী হাসান তালুকদার ওরফে কলি হাসান।অপরদিকে,মিথ্যা মামলা দায়ের,জিআর চাল বিক্রির টাকা আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সভা ডেকে সর্বসম্মতিক্রমে কলি হাসানকে সমিতি থেকে পাল্টা বহিষ্কার করা হয়েছে। এ নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সাংবাদিকদের মাঝে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির এক জরুরি সভায় কলি হাসানকে বহিষ্কার করার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি প্রেস বিজ্ঞপ্তিরে মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার নেত্রকোনা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে কলি হাসান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির বর্তমান আহ্বায়ক সজীম শাইন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ সাহা ও সাবেক সহ-সভাপতি মামুন রণবীরকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। কলি হাসানের অভিযোগ,গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সমিতির মাসিক সভায় এই তিন সাংবাদিক তাকে গালিগালাজ ও মারধরের চেষ্টা করেন।
এ বিষয়ে কলি হাসান মামলার নিশ্চিত করেন যে,সংগঠনের তিনজনের নামেই তিনি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সজীম শাইন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতির তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের,জিআর চাল বিক্রির টাকা আত্মসাৎ,সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগ্রহীত ফান্ডের টাকার হিসাবে গড়মিল ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ওয়ালী হাসান তালুকদার ওরফে কলি হাসানকে দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে জানাযায়,২৮ ফেব্রুয়ারির সভায় কলি হাসানের স্বৈরাচারী আচরণ,অনৈতিক কর্মকান্ড ও আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে জবাব চাওয়া হলে তিনি সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন। এর জেরে সমিতির ১৩ সদস্যের মধ্যে ১০ জন লিখিতভাবে অনাস্থা জানালে আগের কমিটি বিলুপ্ত করে সজীম শাইনকে আহ্বায়ক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এই ক্ষোভ থেকেই কলি হাসান গত ৩ মার্চ থানায় মিথ্যা জিডি এবং পরবর্তীতে হয়রানিমূলক মামলা।
সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম সজীব এবং নির্বাহী সদস্য দিলোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, কলি হাসান জিডিতে চুরির যে অভিযোগ এনেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তারা জানান, কলি হাসান মূলত জিআর চালের টাকা আত্মসাৎ করতেই নাটক সাজিয়েছেন এবং সাংবাদিকদের হয়রানি করার জন্যই উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করেছেন।