শিরোনাম

রৌমারীতে বন্যার পানির স্রোতে ব্রিজ দেবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

মোস্তাফিজুর রহমান তারা, (রৌমারী) কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে গত জুলাই মাসের শুরুতে ভয়াবহ তৃতীয় দফায় বন্যার প্রবল বৃষ্টি ও ভারতীয় পাহাড়ী ঢলে আসা পানি ব্রহ্মপুত্র নদ উপচে বন্দবেড় ইউনিয়নের বাঘমারা ফৌজাদারী বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয় ঢুকে উপজেলা সদরসহ প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়ে। সেই পানির চাপে বন্দবেড় গ্রামের দক্ষিণ মাথায় ২০০০ সালে নির্মাণকৃত ব্রিজটি পানির স্রোতে দেবে যায়। এতে রৌমারী সদরের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ওই এলাকার মানুষের সাথে। তবে এলাকার অনেকেই অভিযোগ করে বলেন সেই সময় ব্রিজের কাজটি নিম্নমানের হওয়ায় অতি অল্প পানির ¯্রােতে দেবে যায়। ৪০ ফিট ব্রিজটি ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রানালয়ের অর্থায়নে নির্মিত হয়।

এলাকাবাসি জানায়, উপজেলার বন্দবেড় দক্ষিণ মাথায় আব্দুল খালেকের বাড়ি সংলগ্ন গত ২০ বছর আগে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। এ ব্রিজের সংযোগ সড়ক দিয়ে বন্দবেড়, বাঘমারা, চরবন্দবেড় ও পর্দারচরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। রাস্তাটি বন্দবেড় বেড়ীবাঁধ হতে দক্ষিণে ডিসি রাস্তায় গিয়ে মিলিত হয়। এ রাস্তাটি দিয়ে প্রতিনিয়ত প্রায় ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। কৃষকরা তাদের উপার্জিত ফসল এ রাস্তা দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়ে যেতে হয়। বন্দবেড় গ্রামে দুটি চালকল রয়েছে। যার মালামাল এ ব্রিজের উপর দিয়েই আনা নেওয়া হতো। বন্যার পানির স্রোতে ব্রিজটি ভেঙ্গে চালকল দুটির কার্য্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে চালকলে কর্মরত কয়েকটি পরিবার বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অপর দিকে ওই এলাকার মানুষ অতি কষ্টে অন্যন্যের জমি দিয়ে হাটবাজারে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বীরমুক্তিযোদ্ধা আয়নাল হক জনান,প্রবল বন্যার কারনে ফৌজদারী বেড়ীবাঁধটি ভেঙ্গে যায়। সেই পানির স্রোতের চাপে এই ব্রিজটি ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এই এলাকার। ব্রিজটি পূর্ণ নির্মাণের জন্য স্থানীয় প্রসাশনের কাছে জোড় দাবী করছি। স্থানীয় এলাকাবাসি রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, ব্রিজের কাজ নিম্নমানের হওয়ায় বন্যার পানির স্রোতে ব্রিজটি দেবে যায়। তিনি আরোও বলেন, এলাকাবাসি নিম্নমানের কাজে বাঁধা দিয়ে ছিলাম তারা শুনেনি।

সহকারি শিক্ষক মোখলেছুর রহমান, আজাদুল হক বলেন, ব্রীজটি ভেঙ্গে আমাদের যোগাযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। তাই সরকারের কাছে ফৌজদারী বেড়ীবাঁধ ও ব্রিজটি নির্মাণের জন্য অনুরোধ করছি।

চালকল মালিক আবুল কাশেম জানান, ব্রিজটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ধান ও চালসহ কোন মালামাল আনা নেওয়া করতে পারছি না। তাতে আমার চালকল বন্ধ হয়ে গেছে। উক্ত ব্রিজটি পূর্ণ নির্মাণ করা না হলে আমারসহ এলাকার অনেক ক্ষতি হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান বলেন, বন্যায় উপজেলার অনেক ক্ষতি হয়েছে। বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় বন্দবেড় গ্রামে একটা ব্রিজ দেবে যাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভিন্নবার্তা/এসআর

আরো পড়ুুন