
চলতি বছরের দফায় দফায় বন্যার কবলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের অন্তত ৩৩ জেলার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নামলেও টানা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।
এরই মধ্যে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে পদ্মা-মেঘনার তীরবর্তী এলাকা। ভারী বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত সপ্তাহের সুস্পষ্ট লঘুচাপ কাটতে না কাটতেই ফের লঘুচাপের কারণে সাগর রয়েছে উত্তাল।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি তিন সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ছয় সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পদ্মা নদীর পানি বেড়ে এলাকার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ফের অবনতি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে চার সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্র। এতে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে আছে উপজেলার দেবগ্রাম, দৌলতদিয়া, ছোটভাকলা ও উজানচর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম।
মধ্যাঞ্চলের শরীয়তপুরে পদ্মা ও দক্ষিণের দ্বীপজেলা ভোলায় মেঘনার পানি ফের বেড়েছে। শরীয়তপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা ও মেঘনার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এতে শরীয়তপুরের নড়িয়া, জাজিরা ও গোসাইরহাট উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ৫ দফা বন্যার কবলে পড়ে এসব এলাকার মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন।
ভোলায় মেঘনার পানি বিপদসীমার ১০৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়ি-বাঁধের বাইরের ২০টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হওয়ায় হাজার হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন। জোয়ারের পানিতে মাছের ঘের ভেসে গেছে। এছাড়া ভোলার লক্ষ্মীপুর রুটের ইলিশা ফেরিঘাটের বেশ কিছু অংশ ডুবে যাওয়ায় ফেরি চলাচল ব্যহত হচ্ছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য জানা গেছে, সারা দেশে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও এখনো চারটি স্টেশনের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। যমুনা, আত্রাই, ধলেশ্বরী ও পদ্মা নদীর পানি এখনো ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গঙ্গা নদীর পানি সমতল থেকে আরোও বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুরের নিম্নাঞ্চল বন্যায় স্থিতিশীল থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
ভিন্নবার্তা ডটকম/পিকেএইচ