
চট্টগ্রামে সাদাপোশাকে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা না পেয়ে ইয়াবা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে এক সোর্স, পুলিশের ৮ সদস্যসহ ৯ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আজ বুধবার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম মহিউদ্দিন মুরাদের আদালতে মামলাটি করেন কৃষি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক আবুল ওয়াহেদ।
মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সহিদুল ইসলাম, উপপরিদর্শক (এসআই) নুরনবী ও গোলাম মোহাম্মদ নাসিম (বর্তমানে বাকলিয়া থানা), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) অমিত ভট্টাচার্য, শরিফুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, কনস্টেবল সোলাইমান, ফৌজুল করিম ও পুলিশের সোর্স রুবেল।
বাদীর আইনজীবী মো. আলমগীর জানান, শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি তদন্তের জন্য নগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আরজিতে বলা হয়, বাদী সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার আরেফিন নগর এলাকায় একটি দোকান করেন। পাশাপাশি জায়গাজমির ব্যবসা করেন। গত ১৩ জুলাই বাদী দোকানের সামনে বসে কথা বললে সাদাপোশাকে বায়েজিদ বোস্তামী থানা-পুলিশের একটি দল এসে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে বলে তাঁর কাছে আসা মো. হোসেন, মো. হানিফ ও আবুল হোসেনকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁদের মারধর করে। পরানো হয় হাতকড়া। থানায় নিয়ে যাওয়ার পর তাঁদের পরিবারের কাছে ফোন করা হয় দুই লাখ টাকা করে নিয়ে আসতে। অন্যথায় রাতে তাঁদের ক্রসফায়ারে দেবে। খবর পেয়ে থানায় বাদী আবুল ওয়াহেদের ভাই মো. সিদ্দিক ও বোন মনি আক্তার গেলে দেখার জন্য তাঁদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পরদিন বাদী ওয়াহেদকে ২৫, হোসেনকে ২০ এবং হানিফকে ১৫ এবং আবুল হোসেনকে ২০টি ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়া হয়। বাদী এত দিন জেলে থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয়।
সুষ্ঠু তদন্ত চান মামলার বাদী আবদুল ওয়াহেদ। তিনি বলেন, দোকানের সামনে থেকে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ারের হুমকি, ইয়াবা দিয়ে চালান সবই সম্ভব তাদের পক্ষে। সাক্ষীরা ঘটনা প্রমাণ করবেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রিটন সরকার রাতে জানান, ইয়াবা পাওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে কারও কাছে পুলিশ সদস্যরা টাকা চাননি। মামলায় অভিযুক্ত বায়েজিদ বোস্তামী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সহিদুল ইসলামের ফোনে কল করা হলেও তিনি ধরেননি।
ভিন্নবার্তা ডটকম/পিকেএইচ