
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা যদি সত্যিকার অর্থে জনগণের হাতে রাখতে হয়, তবে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) গুলশান-২ এলাকার নগর ভবনে আয়োজিত ‘নাগরিক পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষকে একসঙ্গে দুটি ভোট দিতে হবে। একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য, আর অন্যটি গণভোটে। সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সময় জনগণকে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যেন পরে অনুশোচনায় ভুগতে না হয়। আর গণভোটটি হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, যদি দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে সংস্কার চায়, তাহলে সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ হতে হবে। এই সুযোগ অবহেলায় হারালে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য হারিয়ে যেতে পারে।
গণভোটের প্রস্তাবনাগুলো ভালোভাবে পড়ে বোঝার আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সরকারের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। এ সময় তরুণ সমাজের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণরা যেভাবে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশকে মুক্ত করেছে, শুধু সেই অর্জনে সন্তুষ্ট থাকলেই চলবে না। অতীতের আন্দোলনের ফসল যেন বৃথা না যায়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, ভয়কে জয় করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের মানুষ অতীতে বহুবার ভয়কে পরাজিত করেছে। তরুণদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে গণতান্ত্রিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে নাগরিক দায়িত্ববোধ ও নগর উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ প্রদান করা হয়।
ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্থানীয় সরকার সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, লেখক ও গণবুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খান এবং ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য অতিথিরা।