1. admin-1@vinnabarta.com : admin : admin
  2. admin-2@vinnabarta.com : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  3. admin-3@vinnabarta.com : Saidul Islam : Saidul Islam
  4. bddesignhost@gmail.com : admin : jashim sarkar
  5. newspost2@vinnabarta.com : ebrahim-News :
  6. vinnabarta@gmail.com : admin_naim :
  7. admin_pial@vinnabarta.com : admin_pial :
সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি

বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই, চতুর্থ দফায় বাড়ছে যমুনার পানি

ভিন্নবার্তা প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২০ ১২:৪৯ pm

সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি ক্রমশ বাড়ছে। ফলে বাড়ি ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে বাঁধসহ বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রিত হাজার হাজার বন্যাদুর্গত মানুষ। গত ১০ দিন ধরে তারা বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিলেও চতুর্থ দফায় পানি বৃদ্ধির ফলে তাদের বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। ক্রমশ দীর্ঘতর হচ্ছে বানভাসি এসব মানুষের বাঁধে আশ্রিত জীবন।

এদিকে শরতের প্রথম দিন থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি বাঁধে আশ্রিত এইসব মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। বর্তমানে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে মঙ্গলবার সকালে তা বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ সদরের কাটাওয়াবদা ৩ নম্বর ক্রসবার বাঁধে আশ্রয় নেওয়া কবির হোসেনের স্ত্রী ফাহিমা জানান, প্রায় আড়াই মাস ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘যমুনার পানি কমে আর বাড়ে। এর মধ্যে বাড়ি থেকে পানি নেমে গেলে বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করি কিন্তু আবারো পানি বেড়ে এখন বাড়ির মধ্যে হাঁটু পানি। কিভাবে বাড়িতে যাব?

বাঁধে আশ্রিত নূর মোহাম্মদের স্ত্রী জোসনা বলেন, প্রতিবছরেই বন্যা হলে ১৫-২০দিনের মধ্যে পানি নেমে যায়। কিন্ত এবার প্রায় দুইমাস হয় বন্যার পানি নামছে না। আবারো পানি বাড়ছে। তাই ঘরে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, স্বামী রিকসা চালায় দুই সন্তান নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কষ্টে দিন যায়। দীর্ঘ দিন পানি থাকায় তাদের ঘরের টিন কাঠ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কেউ সাহায্য সহযোগীতাও করছে না। টাকা পয়সা নেই ঘর ঠিক করার। তাই পানি নেমে গেলে ঘর ঠিক করে বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়বে।তিনি সরকারি ৫ কেজি চাল ছাড়া এ পর্যন্ত আর কিছুই পাননি বলে জানান।

গত পাঁচ দিন ধরে সিরাজগঞ্জে যমুনায় পানি আবারো বাড়ছে। এ অবস্থায় সিরাজগঞ্জের বন্যাদুর্গত মানুষেরা বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র বাঁধ ও উঁচু স্থান ছেড়ে নিজ নিজ বাসস্থানে যাওয়া শুরু করলেও এখন তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। আবারো অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে থমকে গেছে দুর্গত মানুষের জীবন। পানি বৃদ্ধি দেখে এই মুহূর্তে তারা বাড়ি ফিরবেন না আশ্রয় নেওয়া স্থানে থেকে যাবেন তার সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, যমুনায় পানি কখনো বাড়ছে আবার কখনো কমছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে মঙ্গলবার সকালে তা বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তিনি আরো বলেন, বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাতের সম্ভবনা রয়েছে। যার কারণে পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে এবং চতুর্থ দফা বন্যারও সম্ভবনা রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, চলতি বছরের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সিরাজগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার পরিবার। পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ। তিনি বলেন, বন্যা এখনো শেষ হয়নি। পানি আবারো বাড়ছে। তৃতীয় দফা বন্যায় জেলার ৬টি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করা হয় তবে চতুর্থ দফা বন্যার আশঙ্কার কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, জেলায় বন্যাদুর্গতদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৫৬৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা এবং শিশু ও গোখাদ্য বাবদ ২১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ৫ শ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ১০ লাখ টাকা মজুদ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভিন্নবার্তা ডটকম/পিকেএইচ



আরো




আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

মাসিক আর্কাইভ