
মুরাদনগর (কুমিল্লা) : বসতভিটা থেকে মাত্র ১শ গজের দূরত্বে গত তিন মাস ধরে দেদারসে চলছে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলন। এরই মধ্যে ভুক্তভোগী মৌখিক ভাবে কয়েক দফা জানানোর পরেও প্রভাবশালীরা ড্রেজার বন্ধ করেনি। পরে অবৈধ ড্রেজার বন্ধে গত ২৬/১২/২০২২ তারিখ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিন ভূইয়া জনী স্যারের বরাবর গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি তারা জানতে পেরে তার উপর আরো ক্ষিপ্ত হয় এবং মাটি উত্তোলন অব্যাহত রাখেন। পরবর্তীতে গত ০৫/০১/২৩ তারিখ পুনরায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগী। এবারও বিষয়টি জানতে পেরে ড্রেজার ব্যবসায়ী সোহেল ও তার লোকজন শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে রোজা রাখা অবস্থায় আবুল বাশার ও তার পরিবারের উপর হামলা চালায়। এই পরিবারের কাউকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না বলেও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অভিযোগ করেন মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের লাজৈর গ্রামের মৃত আস্কর আলীর ছেলে আবুল বাসার (৬২)।
অভিযুক্ত অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের লাজৈর গ্রামের মতিন মুন্সির ছেলে।
ভুক্তভোগী আবুল বাসারের ছেলে কামাল হোসেন বলেন, আমাদের বাড়ী রক্ষা করতে আমার বাবা যত বার ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ দিছে ততবারই তারা আমার বাবাসহ আমাদেরকে মারধর করেছে। বর্তমানে তাদের ভয়ে আমরা স্বপরিবারে এখন গ্রাম ছাড়া। তিন মাসে ড্রেজার তো বন্ধ হয়নি বরং অভিযোগ দিয়ে বার বার আমরা মারধরের শিকার হচ্ছি।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলাউদ্দিন ভূঞা জনী অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মারধরের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি শুরুতে অভিযোগ পেয়ে ড্রেজার বন্ধে স্থানীয় ইউপি তহসিলদার ও পুলিশ পাঠিয়ে ছিলাম। ওই ড্রেজার ব্যবসায়ী যদি অভিযোগ কারিকে মারধর করে থাকে তাহলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত (কর্মকর্তা) মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আবুল বাসারের ছেলে একটি অভিযোগ দিয়েছে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভিন্নবার্তা ডটকম/এন