
নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবাঙ্গালী এক ব্যবসায়ী আদালতে মামলা করায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি ও তার জমি আত্মসাতের চেষ্টা করছে প্রতিপক্ষ।
মামলা সূত্রে জানা যায়,শহরের চামড়া গুদাম ক্যাম্পের মৃত মজিবুললাহ ছেলে জাবেদ খান পরিবার নিয়ে ক্যাম্পে বসবাস করেন। ক্যাম্পে থাকার জায়গার সমস্যার কারণে কিসামত কামারপুকুর এলাকার মৃত হামিদের ছেলে আরমান ও ফরমানের কাছ থেকে গত-১/৮/২০১৯ ইং সনে,৩৮৬৮ দলিল মুলে ,২১০ খতিয়ান,৩০৫ দাগের ২৭ এর মধ্যে ৪ শতক জমি ক্রয় করেন জাবেদ খান বাড়ি নিমাণের জন্য। উক্ত জমি আরমান ও ফরমান বিগত ২৪/৫/২০০১ সালে পিতার বন্টন নামা সূ প্রাপ্ত হন। জমি ক্রয়ের পর থেকে জাবেদ খানকে কতিপয় ঘর বাড়ি তৈরি করতে বাধা সৃষ্টি করেন জাবেদ খান অবাঙ্গালী হওয়ায় তাকে নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হয়। ঘর নিমাণ কালে আরিফ নামে এক যুবক ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন। এর সূত্র ধরে নিচু কলোনী এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আরিফ (৩৫) ও তার মা ফাতেমা বেগম(৫৫),কিসামত কামারপুকুর এলাকার মৃত নেজাম উদ্দীনের ছেলে মনজুরুল ইসলাম, (৫৫) আজিজুল ইসলাম,(৫৩) মমিনুল ইসলাম, (৫২) বাধা সৃষ্টি এবং দিনে দুপুরে হুমকি দিয়ে জাল দলিল দেখিয়ে ওই জমি দাবী করেন।
অসহায় জাবেদ খান উপায় না পেয়ে নীলফামারী মাননীয় আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন। যার পিটিশন নং-১৭৪/২০ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পযালোচনা করে ১৪৪ ধারা জারি করেন। যা সৈযদপুর থানা পুলিশ গত ২৪/৮/২০ইং তারিখে উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করেন। ফলে ওই জমি কেউ আর যেতে পারবে না চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত। কিন্তু আদালতের আর্দেশ অমান্য করে উল্লেখিত ব্যক্তিরা জমিতে যাতায়াত করছে এবং মামলা করায় বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ফলে বাদী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ব্যাপারে আজ ৩১ আগষ্ট কথা হয় মামলার বাদী জাবেদ খানের সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, উল্লেখিত ব্যক্তিরা আমাকে নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে। তারা আমার কাছে চাঁদা দাবী করে। মামলা করায় তারা আরো বেপরোয়া হয়েছে। উল্লেখিত মনজুরুল ইসলাম, আজিজুল ইসলাম ও মমিনুল ইসলাম আমার জমি আত্মসাতের চেষ্টা করছে। আমি তাদের সঠিক বিচার দাবী করছি।
অপর দিকে আরিফ ও তার মা ফাতেমা বেগম জাল দলিল দিয়ে জমি দাবী ও হুমকি হয়রানি করায় তাদের বিরুদ্ধে আরমান আলী বাদী হয়ে নীলফামারী মাননীয় আদালতে ১০৭ ধারায় একটি মামলা করেন। যার পিনং-৮৩/১৯। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। এদিকে আরিফ ও ফাতেমা আদালতে যে জবাব দিয়েছেন তাহা মিথ্যা ও বানোয়াট। কারণ জবাবে ওই জমিতে ঘর বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন বলে তারা উল্লেখ করেছেন। আসলে ওই জমিতে কোন ঘর বাড়ি নেই। তারা বহিরাগত লোকজন নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। তারা ভাড়াটে বাহিনী চলাফেরা করছে।
এলাকায় তারা আতংক সৃষ্টি করেছেন। তাদের দখলে কোন জমি নেই। তারা মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। তবে সরেজমিনে তদন্ত হলে আসল ঘটনা বের হবে এবং তাদের মুখোশ খুলে যাবে।
ভিন্নবার্তা/এসআর