
মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে বর্ষা মৌসুম এলেই শুরু হয় অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি বালু সিন্ডিকেট সরকারি নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলন করে বিপুল পরিমাণ বালু মজুত করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ফলুয়ারচর ও বলদমারা ঘাট এলাকায় নদীর তীরে বিশাল বিশাল বালুর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছরের মতো এবারও সারা বছরের ব্যবসার উদ্দেশ্যে বর্ষা মৌসুমে উত্তোলিত বালু সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রায় অর্ধশতাধিক বালু ব্যবসায়ী সংঘবদ্ধভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ থেকে ১০টি বলগেট (বালু উত্তোলন যন্ত্র) দিয়ে প্রতিনিয়ত ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে সরকারি বিধিমালা ও পরিবেশগত নিয়ম-কানুন মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।
নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে হাজার হাজার পরিবারের বসতভিটা, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহাবুবুল হাসান বলেন, বালু উত্তোলনের অভিযোগ আমি পেয়েছি। এনিয়ে ওসির সাথে কথা বলে ভ্রাম্যমান আদলতের মাধ্যমে জেল জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে।