
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শর্তসাপেক্ষে মুক্তির মেয়াদ। এরআগে গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি। এ মুক্তির মেয়াদ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকলেও কেটে গেছে দুই মাসেরও সময়। মুক্তির আদেশের মেয়াদ শেষ হলে কি হবে এমন ভাবনা থেকে এর মধ্যেই নির্বাহী আদেশ আদেশের সময়সীমা আরও বাড়ানোর আবেদন করার বিষয় নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন খালেদা জিয়া। দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, নির্বাহী আদেশর মেয়াদ শেষ হলে কি হবে এমন ভাবনা ভাবিয়ে তুলেছে খালেদা জিয়ার পরবারের সদস্যদের। যেহেতু সরকারী নির্বাহী আদেশে মুক্তি হয়েছে তাই মুক্তির সময়সীমা বাড়ানো হবে কিনা, তাও আবেদনের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হতে হবে। তাই আগে থেকেই পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে আইনজীবীদের আলোচনা করে সম্প্রতি সেরে রাখতে চান তারা।
ইতোমধ্যে দলের কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন খালেদা জিয়া নিজেই। তবে এসব বিষয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া অন্য কোন নেতার সঙ্গে আলোচনা করতে চান না তিনি। সেই মোতাবেক গত ১১ মে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাক্ষাতে খালেদা জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি ও আগাম মুক্তির আবেদনের বিষয়টিই মুখ্য ছিল। এর পরে ২৬ মে রাতে একই ইস্যুতে আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে প্রায় ঘন্টাখানেক আলোচনার করেন খালেদা জিয়া। জানা গেছে, আবেদনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি সামনে তুলে ধরা হবে। মুক্তির পরে থেকেই করোনা ভাইরাসের কারনে তিনি হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। বিরুপ পরিস্থিতির কারণে এখনও কোনও হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া সম্ভব হয়নি তার। যার দরুন মানসিক ভাবে ভালো থাকলেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। তাছাড়া আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যদি ভাইরাসের প্রকোপ থাকে তাহলে তার মুক্তির ময়োদ কেটে যাবে ঘরে বসেই। সেদিক থেকে ছয় মাস সময় পার হলেও প্রথমত তার সুচিকিৎসার কাজটিই অগ্রগণ্য থাকবে জানিয়ে খালেদা জিয়ার নিজে আবেদন করবেন।
জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার মেঝো বোন সেলিমা ইসলাম বলেন, মুক্তির মেয়াদ দুই সাম তো পার হয়ে গেলো আমরা এখনও এ বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে আলোচনা শুরু করিনি। আমরা পারিবারিক ভাবে বসে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেব কি করা যায়। সময় আছে, এরমধ্যে আলাপ হবে নিশ্চয়ই।
জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদা জিয়াকে যে কারনে মুক্তি দেয়া হয়েছে সেই কাজ এখনো শুরু করা যায়নি। করোনা পরিস্থিতির কারনে তার চিকিৎসাই এখানো শুরু হয়নি। তিনি অসুস্থ তাই চিকিৎসার জন্য ফের নতুন করে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। তিনি আবেদন করলে সরকার সময় বৃদ্ধি করতে পারে মানবিক কারণে। তবে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হোক বা না হোক আদালত পুরোপুরি খুললে দুর্নীতির মামলার শুনানির উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
অন্যদিকে, দলীয় প্রধানের মুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কি হবে এটি ভাবিয়ে তুলছে বিএনপির নেতাদেরও। তারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি দল বা আইনের মাধ্যমে হয়নি। যেহেতু সরকারের ই”ছায় হয়েছে তাই মানবিক কারনে হলেও তার খালেদার জিয়ার স্বাস্থ্যর কথা বিবেচনা করে তাকে পুনরায় কারাগারে নেবেন না। কোন কোন নেতার ধারনা মুক্তির শর্ত না ভাঙ্গলে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে দেবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নিজের বাড়িতে বলেই মানসিকভাবে আগের থেকে স্ট্রং তিনি। তবে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতলে যাওয়া জরুরী।কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে সেটা সম্ভব না।
ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, শর্তসাপেক্ষ খালেদা জিয়ার মুক্তির সময়সীমা এখনও আরও অনেক বাকি। আর এ বিষয়টি নিয়ে দলীয়ভাবে আমরা এখনও আলোচনা করিনি। তবে যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তিনি বেরিয়ে এসেছেন, সেটিই হবে মনে হয়। কারণ, সময় বাড়ানোর আবেদন করা হলে পরিবারের পক্ষ থেকেই করতে হবে বলে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, খালেদা জিয়া সহসা আর রাজনীতিতে ফিরবেন বলে মনে হয় না। ঐ নেতা জানান, গত ২৫ মে ঈদের দিন রাতে দলের মহাসিচব সহ কয়েকজন নেতা ঈদ শুভে”ছা বিনিময়ে ফিরোজায় গেলে প্রায় দেড়ঘণ্টা খালেদা সঙ্গে আন্তরিক পরিবেশে কথা বলেন তারা। নিজের শারীরিক সমস্যা এবং সবার ব্যাক্তিগত খোঁজ খবর নেয়া ছাড়া দলের কোন বিষয়ে কথা তুলেননি খালেদা জিয়া। তিনি বেধে দেয়া শর্ত ভঙ্গ করছেন না। সেই হিসেবে সম্ভবত সরকার তাকে আর কারাগারে নেবেন না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দলীয় প্রধান কাগাগারের বাইরে থাকায় এখন প্রত্যেকটা নেতাকর্মীর মনে একটা উচ্ছাস আছে। ৬ মাসের মুক্তি দিয়েছে, দেখতে দেখতে সময় পার হয়ে যাচ্ছে। এরপর কি করবে তাও ভাবার বিষয়।