
না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রখ্যাত বাউল শিল্পী ও সঙ্গীত সাধক সুনীল কর্মকার।তিনি শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ভোর সাড়ে ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।মৃত্যু কালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে নেত্রকোনা ময়মনসিংহসহ দেশের বাউল ও লোকসংগীত অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
বাউল সুনীল কর্মকার ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনাা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।মাত্র সাত বছর বয়স থেকে বাউল গানের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং অত্যন্ত ভরাট ও আবেগময় কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন।আট বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে অন্ধত্ব বরণ করলেও গানের মায়া ছাড়েননি।
দৃষ্টিহীন বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার দোতারা,বেহালা,তবলা, হারমোনিয়াম সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে দক্ষ ছিলেন। উপমহাদেশের প্রখ্যাত বাউল সাধক উস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অনুপ্রেরণায় গান শুরু করেন এবং প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি গান রচনা করেছিলেন তিনি।
লোকসংগীতে অবদানের জন্য সুনীল কর্মকার ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর থেকে প্রাপ্তা শিল্পকলা পদক অর্জন করেন।
বিখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।৬৬ বছর বয়সে প্রয়াত এই শিল্পীর আত্মার শান্তি কামনা করে ফারুকী তার শিল্পকর্মের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
তার মৃত্যুতে শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বাউল শিল্পীবৃন্দ।