1. admin-1@vinnabarta.com : admin : admin
  2. admin-2@vinnabarta.com : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  3. admin-3@vinnabarta.com : Saidul Islam : Saidul Islam
  4. bddesignhost@gmail.com : admin : jashim sarkar
  5. newspost2@vinnabarta.com : ebrahim-News :
  6. vinnabarta@gmail.com : admin_naim :
  7. admin_pial@vinnabarta.com : admin_pial :

জনসংখ্যার অর্ধেক হলেও অধিকাংশ নারী অধিকারবঞ্চিত

ভিন্নবার্তা প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২২ ৪:১৫ pm

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেছেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা অধিকার থেকে বঞ্চিত। নারীর সমতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম হয়।

সোমবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে ‘সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার এবং সিডও সনদের সংরক্ষণ প্রত্যাহারপূর্বক পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রাসঙ্গিকতা’ বিষয়ক ‘দিল মনোয়ারা মনু’ স্মারক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি বাংলাদেশে সম্পত্তিতে নারীর সমঅধিকার, আইনগত অধিকার ও নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করার দাবি জানান।

অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, মুসলিম আইনে নারীদের সম্পত্তিতে অধিকার দেওয়া হলেও নারীরা সম্পদের প্রকৃত মালিকানা পায় খুবই কম। মুসলিম উত্তরাধিকার তিন ধরনের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে বৈবাহিক সম্পর্ক, রক্তের সম্পর্ক, এবং দূর সম্পর্ক। বৈবাহিক সম্পর্কে স্ত্রী ও স্বামীর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার আইনটির সমালোচনা আমরা এখানে প্রাসঙ্গিক মনে করছি। কোনো পুরুষ সন্তানহীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে কিংবা তার কোনো ছেলে সন্তান না থাকলে, ওই লোকের স্ত্রী মোট সম্পত্তির ১/৪ ভাগ পাবেন। কিন্তু, কোনো সন্তান থাকলে বা কোনো ছেলের সন্তান থাকলে, স্ত্রী মোট সম্পত্তির ১/৮ ভাগ পাবেন। অর্থাৎ নারীকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে একজন হিন্দু নারী স্বাধীনভাবে তার সম্পত্তি বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, হিন্দু পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন কোনো আইন নেই। পুরুষরা স্বাধীনভাবে ক্রয়, ভোগদখল ও বিক্রি করতে পারে। হিন্দু আইন পরিষ্কারভাবেই অসম একটি আইন। পৈতৃকসূত্রে একজন নারী কখনোই জমির মালিকানা পায় না। স্বামীর মৃত্যুর পরও স্বামীর জমির কোনো মালিকানা তারা পায় না। বরং স্বামীর মৃত্যুবরণের পর সাধারণত পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুগ্রহে বেঁচে থাকে। ১৯৫৬ সালে সংশোধনের মাধ্যমে সম্পত্তিতে নারী সমঅধিকার ভারতে প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশে হয়নি।

অধ্যাপক হালিম বলেন, নারীর উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ তাদের অধিকার শুধু পরিবারে না, সমাজেও তাদের অবস্থান নির্দেশ করে। পৃথিবীর প্রায় সব সমাজেই নারীরা সম্পত্তিতে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। উন্নয়ন হলেই হয় না; তা টেকসই করতে ন্যায্যতা প্রয়োজন। নারীর সমতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়নের পথ সুগম হয়।

সংবিধানের ধারা ২৭ অনুযায়ী নারীকে আইনের দৃষ্টিতে সমতা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী ও পুরুষ সমান অধিকার লাভ করবে। কিন্তু নারীকে পেছনে রাখার আইনও এ সময় দেখা গেছে। দীর্ঘসময় পর সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরে এলেও নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক মানসিকতা সমাজে রয়েই গেছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল, কিন্তু এ পদক্ষেপ নিতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পুরুষের তুলনায় নারী কাজ বেশি করলেও অনেক ক্ষেত্রে নারী যথাযথ পারিশ্রমিক পায় না। সরকারি দপ্তরগুলোতে যেভাবে প্রধানরূপে নারী প্রশাসক প্রয়োজন ছিল, সেভাবে পদায়ন হয়নি। সংরক্ষিত নারী আসন সাময়িক হিসেবে ঠিক থাকলেও নারী যাতে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে, সে বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। ক্ষমতা স্তরে পুরুষরা ওপরে আর নারীরা নিচেই থেকে যায়।

কৃষি ও অ-কৃষিখাতে নারীদের সমস্যা তুলে ধরে সাদেকা হালিম বলেন, কৃষিকাজে যুক্ত নারীদের ৪৮ শতাংশই জমির মালিকানা থেকে বঞ্চিত। গ্রামীণ এলাকায় কৃষি চাষযোগ্য জমির ৭ দশমিক ২ শতাংশ জমি নারীরা চাষ করে। জমিতে নারীদের মালিকানা থাকলে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ে ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হওয়ার সুযোগ বাড়ে।

এ সময় নারীদের ভূমি অধিকার প্রতিষ্ঠায় ৪টি প্রস্তাব উপস্থাপন করে অধ্যাপক হালিম বলেন, সম্পদে লিঙ্গ সমতা বিধান করতে হবে, উত্তরাধিকার আইনে পরিবর্তন আনতে হবে, হিন্দু নারীদের আইনগত অধিকার দিতে হবে, আদিবাসী নারীদের জমিতে অধিকার দিতে হবে। আদিবাসীদের সম্পদে উন্নয়ন কাজের নামে জমি দখল বন্ধ করতে হবে।

স্মারক বক্তৃতায় এএলআরডির সহ সভাপতি ড. রওশন আরা ফিরোজের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।
ভিন্নবার্তা ডটকম/এন



আরো




আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

মাসিক আর্কাইভ