
কক্সবাজারের রামুতে অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কায় নারী-শিশুসহ নিহত হয়েছেন চারজন। তাদের তিনজনই একই পরিবারের।
শনিবার বেলা দেড়টার দিকে রামুর রশিদনগর এলাকার রেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন রামু থানার ওসি তৈয়বুর রহমান।
নিহতরা হলেন, কক্সবাজার সদর উপজেলার পোকখালী ইউনিয়নের পূর্ব গোমাতলী এলাকার বাসিন্দা রেনু আরা (৩৫), তার বোন আসমা আরা (১৩), রেনু আরার দেড় বছর বয়সী ছেলে আশেক উল্লাহ এবং অটোরিকশার চালক ঈদগাঁও মেহেরঘোনা এলাকার ছৈয়দ নূরের ছেলে হাবিব উল্লাহ (৪০)।
এর আগে রেনু আরার চার বছর বয়সী ছেলে আতা উল্লাহসহ পাঁচজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন ওসি।
পরে রাতে সাড়ে ৯টায় ওসি তৈয়বুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে ও রেললাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখে ধারণা করা হয়েছিলো রেনু আরার ছেলে আতাউল্লাহও নিহত হয়েছে।
“কিন্তু সন্ধ্যায় তার পরিবার থেকে বলা হয়েছে আতাউল্লাহ বেঁচে আছে। রেনু আরা যাওয়ার সময় ছেলেকে মাদ্রাসায় রেখে যান। শিশুটি সুস্থ আছে। আমরাও চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছি।”
আতাউল্লাহ মাদ্রাসায় থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ফুফাতো বোন সামিয়া রহমানও।
রশিদনগরের ইউপি সদস্য বদি আলম বলেন, অটোরিকশাটি রশিদনগর রেলক্রসিং পেরিয়ে রেল লাইনের উপর উঠে পড়লে কক্সবাজার এক্সপ্রেস সেটিকে ধাক্কা দেয়।
“এ সময় অটোরিকশাটি ট্রেনের সামনের অংশে আটকে গেলে প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় ট্রেন। এতে নিহতদের দেহ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছিটকে পড়ে।”
রেলওয়ের রামু স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার আক্তার হোসেন বলেন, “দুর্ঘটনাস্থল আমার স্টেশন থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে। সম্ভবত এটি একটি লেভেল ক্রসিং।
“লেভেল ক্রসিংগুলো ছোটো হওয়ায় এখানে কোনো গেইট বা ব্যারিয়ার থাকে না। তবে সতর্কীকরণ নির্দেশনা বোর্ড লাগানো থাকে। গেইট ব্যারিয়ার থাকে বড় ক্রসিংগুলোতে।”
তিনি আরও বলেন, “এই দুর্ঘটনার পর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি গন্তব্যে চলে গেছে। কিন্তু রামুর পানিরছড়া এলাকায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস আটকে রাখেন বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে র্যাব পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পরে বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে দেন স্থানীয়রা।
ট্রেনটি কক্সবাজার পৌঁছেছে বলেও জানান সহকারী স্টেশন মাস্টার আক্তার হোসেন।