
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) : রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ, সোনাভরি, হলহলি ও জিঞ্জিরাম নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার ভেকু (এক্সিভিকেটর) দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। বর্ষা মৌসুম ছাড়া সারা বছরই প্রকাশ্যে ঢাক ঢোল পিটিয়ে মানুষ খেকো কাঁকরা গাড়ির মাধ্যমে উপজেলার জনবহুল সড়ক ও গ্রামীণ কাচাঁপাকা গাড়ি চালানোর অনুপযোগী রাস্তায় বালু ভর্তি কাঁকড়া চালিয়ে বালু সরবরাহ করা হচ্ছে। ব্রেক বীহীন কাঁকড়া গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে এপর্যন্ত ডজন খানেক স্কুল গামি ছাত্র ও পথযাত্রি নিহত হয়েছে। অপরিকল্পিত অবৈধ ভাবে বালু উত্তলনের ফলে একদিকে নদী ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়েছে, পরিবেশ দুষন হচ্ছে, অপর দিকে প্রাণ হানি বেড়েই চলছে। বালু উত্তলন বন্ধে এলাকাবাসি মানব বন্ধনসহ উপজেলা প্রশাসন বরাবর স্মারক লিপি প্রদান করলেও রহস্যজনক ভাবে প্রশাসন নিরবতা পালন করছে।
অবৈধ বালু উত্তোলনের কারনে হুমকিতে পড়তে হয় নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের। এসব বালু ট্রাক্টর (কাকড়া) দিয়ে পরিবহন করায় নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি ও গ্রামীন রাস্তাঘাট।
নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত রয়েছে শক্তিশালি একটি চক্র। এ কারনে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনে ফলে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েন নদী কূলীয় মানুষ। ব্রহ্মপুত্র নদ, সোনাভরি, হলহলি, জিঞ্জিরাম নদী থেকে প্রতিদিন ভেকু ও ড্রেজারে উত্তোলিত বালূ ১শত থেকে দেড়শত ট্রাক্টর (কাকড়া) গাড়ি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে।
ট্রাক্টর (কাকড়া) ও ভেকুর মালিক আজিজ, হারুন, চালক শাহিন, ফকির চাঁনসহ অনেকেই বলেন, রৌমারীতে প্রায় ৮০/ ৯০ টি ট্রাক্টর (কাকড়া) গাড়ি চলছে। এসব গাড়ি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বালুসহ মালামাল নেয়া হয়।
বন্দবেড় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল কাদের জানান, বিভিন্ন উন্নয়নের ক্ষেত্রে বালুর প্রয়োজন। কিন্তু এমন নয় অবৈধভাবে বালূ উত্তোলন করে ক্ষতির সন্মুখীন হতে হয়। বালু উত্তোলনের কারনে বর্ষার সময় নদী ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়ে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ।
নদী থেকে অবৈধভাবে বালূ উত্তোলনের বিষয়ে ভেকু মালিক ও চালক রহম আলী, জাইদুল ইসলাম, শাহাজাহানসহ অনেকেই জানান, আমাদের ট্রাক্টর সমিতির সভাপতি সম্পাদকের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে বালূ উত্তোলন করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ হাসান খান জানান, নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালূ উত্তোলনের বিষয়ে জানতে পেরেছি। এক সপ্তাহের মধ্যে বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরিফের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি জানান, অবৈধভাবে বালূ উত্তোলন বিষয়ে জানতে পেরেছি। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়েছে।
ভিন্নবার্তা ডটকম/এন