1. admin-1@vinnabarta.com : admin : admin
  2. admin-2@vinnabarta.com : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  3. admin-3@vinnabarta.com : Saidul Islam : Saidul Islam
  4. bddesignhost@gmail.com : admin : jashim sarkar
  5. newspost2@vinnabarta.com : ebrahim-News :
  6. vinnabarta@gmail.com : admin_naim :
  7. admin_pial@vinnabarta.com : admin_pial :

৩৭ লাখ টাকার ট্রাকশন মোটর ১ কোটি ৭৫ লাখে কেনার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ৬:১৭ pm

বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রাকশন মোটর ক্রয়কে কেন্দ্র করে অতিমূল্যে কেনাকাটা, সরবরাহকৃত পণ্যের প্রকৃত উৎস গোপন, নথি জালিয়াতি এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের যোগসাজশের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৭ লাখ টাকা) মূল্যের একটি ট্রাকশন মোটর বাংলাদেশ রেলওয়ে কিনতে যাচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারে ( ১ কোটি ৭৫ লাখ)। অভিযোগকারীর দাবি, এতে প্রতিটি মোটরেই বিপুল অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে গত ৩ আগস্ট রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগপত্রের অনুলিপি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের চিফ কন্ট্রোলার অব স্টোরস (সিসিএস) কার্যালয়ের মাধ্যমে আইজিটি (এলটিএম) পদ্ধতিতে ট্রাকশন মোটর ক্রয়ের পুরো প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।

এতে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফকির মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং চিফ কন্ট্রোলার অব স্টোরস বেলাল হোসেনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তারা সংশ্লিষ্ট ক্রয় কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং কথিত সিন্ডিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগপত্রে দ্য কসমোপলিটান করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাবিল আহসানের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রাকশন মোটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহের নামে অতিমূল্যে বিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

অভিযোগপত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ট্রাকশন মোটরের মূল্য নির্ধারণ। এতে দাবি করা হয়েছে, একটি টেন্ডারে ১০টি ট্রাকশন মোটরের প্রতিটির মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। অথচ একই ধরনের মোটর অনুমোদিত অন্য উৎস থেকে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলারে সংগ্রহ করা সম্ভব।

অভিযোগকারীর দাবি, এভাবে প্রতিটি মোটরে প্রায় ১ লাখ মার্কিন ডলারের মূল্য ব্যবধান সৃষ্টি করা হয়েছে। শুধু ওই একটি টেন্ডারেই সরকারের ১০ কোটিরও বেশি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, কথিত সিন্ডিকেট প্রথমে চীনে পণ্য উৎপাদন বা সংগ্রহ করে। এরপর সেগুলো কানাডায় নিয়ে পুনরায় প্যাকেজিং করা হয়। এমনকি পণ্যের মূল নেমপ্লেট পরিবর্তন করে অন্য প্রতিষ্ঠানের নেমপ্লেট লাগিয়ে বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্য কসমোপলিটান করপোরেশন বা এর সিইও নাবিল আহসানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগকারীর মতে, এসব অভিযোগ যাচাই করতে প্রতিটি চালানের সার্টিফিকেট অব অরিজিন, বিল অব লেডিং, ওয়ারেন্টি সার্টিফিকেট, কমার্শিয়াল ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, কাস্টমস ডিক্লারেশন, ইন্সপেকশন রিপোর্ট এবং সিরিয়াল নম্বর পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, সরবরাহকারী এবং আমদানির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

অভিযোগপত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, বর্তমান টেন্ডারটি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। ভবিষ্যতে প্রায় ২০০টি ট্রাকশন মোটর কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমান ক্রয় প্রক্রিয়া একইভাবে অব্যাহত থাকলে সরকারের শত শত কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

এ কারণে বর্তমান চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের পাশাপাশি গত ১৭ বছরে দ্য কসমোপলিটান করপোরেশনের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের সব ক্রয়চুক্তি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের চারটি টেন্ডারের রেফারেন্সও উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া নাবিল আহসানের বিরুদ্ধে অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রেলওয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে শত শত কোটি টাকার কার্যাদেশ নেওয়া এবং একই বিলের বিপরীতে একাধিকবার অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও করা হয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি রেলভবনে প্রভাব বজায় রেখেছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

ট্রাকশন মোটরের সংকটে লোকোমোটিভ
ক্রয় সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি রেলওয়ের চলমান লোকোমোটিভে ব্যবহৃত ট্রাকশন মোটরের সংকটের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

রেলওয়ের পার্বতীপুর ডিজেল শাখার কর্মব্যবস্থাপক মো. রেজাউল আলম সিদ্দিকী গত ২০ এপ্রিল এক চিঠিতে জ্যাম হওয়া ট্রাকশন মোটরগুলো দ্রুত সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রেলভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তবে চার মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী বর্তমানে মোট ৪৬টি ট্রাকশন মোটর বিয়ারিং জ্যামজনিত কারণে বিকল রয়েছে। এর মধ্যে ৬ ট্রাকশন মোটরবিশিষ্ট লোকোমোটিভ ১০টি, ৫ ট্রাকশন মোটরবিশিষ্ট ৬টি, ৪ ট্রাকশন মোটরবিশিষ্ট ১৪টি এবং ৩ ট্রাকশন মোটরবিশিষ্ট ৫টি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। ফলে পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ব্রডগেজ রুটে লোকোমোটিভ সংকট তৈরি হয়েছে।

রেলের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যবান যন্ত্রাংশ অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকে। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও সময়মতো মেরামতের পরিবর্তে নতুন প্রকল্প গ্রহণে বেশি আগ্রহ দেখানো হয়। এতে জনগণের অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হয়।

ট্রাকশন মোটরের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (লোকো) মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, বর্তমানে ৪৬টি ট্রাকশন মোটরে বিয়ারিং জ্যামজনিত সমস্যা রয়েছে।
তিনি বলেন, ছয় মাস অন্তর যেসব মোটরের লুব্রিকেন্ট বা তেল পরিবর্তন করার কথা ছিল, সেগুলোর অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই তা সময়মতো করা হয়নি।

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন সময়ে লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা এবং বাস ও ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে কিছু লোকোমোটিভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ারেন্টি সুবিধা দেবে না।

তবে চার মাস পার হলেও কেন মেরামত বা প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ সম্পন্ন হয়নি, এ প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। একইভাবে কতগুলো লোকোমোটিভ সম্পূর্ণ অচল রয়েছে, সে সম্পর্কেও নির্দিষ্ট তথ্য দেননি।

অভিযোগকারীর দাবি, বর্তমান ট্রাকশন মোটর ক্রয় প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত রেখে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে গত ১৭ বছরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের সব চুক্তি, পেমেন্ট, আমদানি নথি, মূল্য নির্ধারণ, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এবং সরবরাহের উৎস তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।



আরো




আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  

মাসিক আর্কাইভ