
মোস্তাফিজুর রহমান তারা,রৌমারী (কুড়িগ্রাম):পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা-রৌমারীতেয় দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির চাল বিতরণ কার্যক্রমে এ বছর দেখা গেছে ব্যতিক্রমী স্বচ্ছতা ও কঠোর নজরদারি। সোমবার (১৮ মে) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন।
উদ্বোধনী দিনে তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন। যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হয়ে উপকারভোগীদের তালিকা সরেজমিনে যাচাই-বাছাই করেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ১০ কেজি করে চাল তুলে দেন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যাদুরচর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শরবেশ আলী সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার টেক অফিসার সহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভিজিএফ চাল বিতরণে প্রশাসনের সরাসরি তদারকি ছিল উল্লেখযোগ্য। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সরকারি গুদাম থেকে বরাদ্দকৃত চাল টেক অফিসারের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছানো হয়। ফলে পরিবহন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের জালিয়াতি বা তছরুপের সুযোগ তৈরি হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন বলেন,“সরকার প্রতিবছর দুই ঈদে হতদরিদ্র মানুষের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করতে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা দিয়ে থাকে। আমরা লক্ষ্য রেখেছি—এই সহায়তা যেন কোনো প্রকার দুর্নীতি ছাড়াই প্রকৃত উপকারভোগীদের ঘরে পৌঁছে। কেউ যদি ১০ কেজি চালের এক কেজিও আত্মসাৎ করার চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরেজমিনে কয়েকজন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর চাল বিতরণে কোনো অনিয়ম চোখে পড়েনি। তারা জানান, নির্ধারিত পরিমাণ ১০ কেজি চালই তারা হাতে পেয়েছেন। প্রশাসনের এমন তদারকিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
একজন উপকারভোগী বলেন, “আগে নানা অভিযোগ শুনতাম। কিন্তু এবার ইউএনও স্যার নিজে এসে দেখভাল করায় আমরা ঠিকমতো চাল পেয়েছি। ঈদের আগে এই সহায়তা আমাদের জন্য বড় উপকার।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের এই উদ্যোগ শুধু চাল বিতরণেই স্বচ্ছতা আনেনি, বরং সরকারি সহায়তা কার্যক্রমে জনগণের আস্থাও বাড়িয়েছে। ঈদের আগে এমন কার্যকর উদ্যোগ হতদরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে বলেই প্রত্যাশা সবার।