
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে সৃষ্ট বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলাসহ সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবহণ শ্রমিকদের আকস্মিক এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
আজ সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৮টার পর থেকেই শ্রমিকদের একটি অংশ বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে রাজশাহী শিরোইল ও নওদাপাড়া বাস টার্মিনালসহ কোনো কাউন্টার থেকে নির্ধারিত রুটে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। ফলে সারাদেশের সঙ্গে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন গতকাল রোববার (১৭ মে) রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ২১ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করে। এতে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি এবং মোমিনুল ইসলাম মোমিনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তবে সাধারণ নির্বাচন ছাড়া এভাবে পকেট কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়ে শ্রমিকদের একটি বড় অংশ আন্দোলনে নামে। তাদের দাবি, সদ্য ঘোষিত এই অবৈধ কমিটি বাতিল করে অবিলম্বে তিন মাসের জন্য একটি নিরপেক্ষ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করতে হবে এবং দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এদিকে সকাল থেকে বাসের অপেক্ষায় থাকা একাধিক যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে তারা কাউন্টারগুলো বন্ধ দেখতে পান। হঠাৎ বাস বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার আগে এমন হঠকারী কর্মসূচিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
ঢাকার যাত্রী আরিফুল ইসলাম বলেন, জরুরি কাজে পরিবার নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকে কাউন্টারে বসে আছি। হঠাৎ করে বাস বন্ধ হয়ে যাবে- এমন তথ্য আগে থেকে কেউ জানায়নি। এখন পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।
রফিকুল নামের আরেক ক্ষুব্ধ যাত্রী বলেন, শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে সাধারণ যাত্রীদের এভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হবে কেন? বিকল্প কোনো যানবাহনও পাচ্ছি না, আর যেগুলো আছে তারা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছে।
ছোট বাচ্চা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা শারমিন সুলতানা নামের এক যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, কখন বাস চলবে কেউ পরিষ্কার করে বলতে পারছে না। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা কেউ ভাবছে না।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নবঘোষিত কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, বাস বন্ধের বিষয়টি জানার পর থেকেই আমরা আন্দোলনকারীদের সাথে দফায় দফায় কথা বলেছি। তাদের অনেকভাবে বুঝিয়েছি যে, সামনে ঈদ, মানুষ বাড়ি ফিরবে, তাই এখন বাস বন্ধ রেখে দুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। যেহেতু নতুন কমিটি ঘোষণা হয়েছে, কিছুদিন যাক, আমরা দ্রুতই নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। আশা করছি, যত দ্রুত সম্ভব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারব।