
মাঘ আসতে বাকি আরও এক মাস। কিন্তু ঘরের বাইরে বের হওয়া মানুষদের কাছে এ যেন মাঘের শীতের মত শীত অনুভূত হচ্ছে। হিমেল হাওয়ায় সঙ্গে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পতন হচ্ছে উত্তরের জেলাগুলোতে।
শীতের সকালে তীব্র শীত উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি শ্রমিকরা। তবে ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনের পাশাপাশি গবাদি পশুপাখি শীতের তীব্রতায় কাহিল হয়ে পড়েছে। ঘরে বাইরে মানুষজন উষ্ণতা পেতে শীত বস্ত্র পরিধান করছেন। এবার যেন রংপুরসহ গোটা উত্তরাঞ্চল জুড়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত।
এদিকে কাজের প্রয়োজনে সাতসকালে বের হওয়া সাধারণ মানুষের সঙ্গে চাকরিজীবীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
আবহাওয়া অফিস বলছে, দিন দিন তাপমাত্রা কমতে থাকবে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীতের তীব্রতা বাড়বে। এতে করে রংপুরে আশপাশের এলাকাগুলোতে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সরেজমিনে রংপুর নগরী সাতমাথা বালাটারী, নব্দীগঞ্জ, মর্ডাণ মোড়, তামপাট, সাহেবগঞ্জ, কাউনিয়া, পীরগাছা, দেউতি, পায়রাবন্দসহ জেলার বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে এবং খোঁজ নিয়ে এমন শীতের তীব্রতা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার রংপুরে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলায় ১২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াতে। এখানে মঙ্গলবারের তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল।
রংপুরসহ গোটা উত্তরাঞ্চলে শীতের সকালে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। কোথাও কোথাও সড়কে, অলিগলি আর খোলা জায়গায় খড়কুটো জ্বালিয়ে চলছে শীত নিবারণের চেষ্টা। ঘরে বাইরে উষ্ণতা পেতে শরীরে মানুষজন শীতের কাপড় জড়িয়ে নিচ্ছেন।
এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যার পর কুয়াশায় ঢেকে যায় রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা উপজেলা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত। সময় যত গড়িয়েছে ততোই যেন কুয়াশায় চাদরে ঢাকা পড়ে রংপুরের চারপাশ। নগর-বন্দর, হাট-বাজার সবখানেই মধ্যরাত থেকে ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে। ভোরে কিছুটা কুয়াশা কমলেও হেডলাইটের আলো ছাড়া ভালো দেখা যাচ্ছে না সড়ক।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ কিছুটা পরিষ্কার হতে দেখা গেলেও তা স্থায়ী হয়নি। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে রংপুরসহ উত্তরের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শহর থেকে একটু দূরে গ্রামে থাকা ছিন্নমূল, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারগুলো শীতবস্ত্রের অভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন বেশি। অনেকের শীতবস্ত্র কেনার মতো সামর্থ্যও নেই। তাই খড় ও শুকনা পাতা কুড়িয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন তারা।
নগরীর তামপাট এলাকার আশরাফুল আলম, শাহিন, নুরুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন জানান, এবার শীতের তীব্রতা বেশি মনে হচ্ছে। রাতের বেলায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছে।
কাউনিয়া উপজেলার হরিশ্বর গ্রামের আলম মিয়া, দোয়েল, লায়লা বেগমসহ অনেকেই জানান, ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা নাকাল। আগাম শীতের তীব্রতা মোকাবেলায় প্রস্তুতি না থাকায় অনেকেই কষ্টে আছেন।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রংপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে শীতের প্রকোপ বাড়বে। দিন দিন তাপমাত্রা কমতে থাকবে। এতে করে রংপুরে আশপাশের এলাকাগুলোতে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভিন্নবার্তা প্রতিবেদক