1. admin-1@vinnabarta.com : admin : admin
  2. admin-2@vinnabarta.com : Rumana Jaman : Rumana Jaman
  3. admin-3@vinnabarta.com : Saidul Islam : Saidul Islam
  4. bddesignhost@gmail.com : admin : jashim sarkar
  5. newspost2@vinnabarta.com : ebrahim-News :
  6. vinnabarta@gmail.com : admin_naim :
  7. admin_pial@vinnabarta.com : admin_pial :
মুক্তিযোদ্ধার তালিকা

যাচাইয়ের জন্য প্রায় ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা ওয়েবসাইটে

ভিন্নবার্তা প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০ ৯:৫৫ am

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশ ছাড়া যাঁদের নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ‘বেসামরিক গেজেটে’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাঁদের মধ্য থেকে ৩৯ হাজার ৯৬১ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, প্রায় ৪২ হাজার মুক্তিযোদ্ধার তালিকা যাচাই-বাছাই করার কথা থাকলেও গত দুই দিন যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, প্রায় তিন হাজার মুক্তিযোদ্ধার নাম আগেই বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁরা ৩৯ হাজার ৯৬১ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করেছেন। এখান থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা জানতে পারবেন কাদের নাম যাচাই-বাছাই হবে। মন্ত্রী জানান, ২০০২-এর পর থেকে এ পর্যন্ত জামুকার সুপারিশ ছাড়া যাঁরা গেজেটভুক্ত হয়েছেন, তাঁদের যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও জামুকা আইন অনুসারে বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে অবশ্যই তাঁদের সুপারিশ নিতে হবে।
যাচাই-বাছাইয়ের প্রেক্ষাপট
গত বৃহস্পতিবার জামুকার ৭১তম সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ যাচাই-বাছাইয়ে নির্দেশিকা অনুমোদন করা হয়। ইতিমধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এমআইএসের ভিত্তিতে সম্মানী ভাতা প্রদানসংক্রান্ত নির্দেশনা ও উপজেলা কমিটি গঠনের চিঠিপত্রও ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে যাচাইয়ের কাজটি শেষ করতে চায় জামুকা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কারও ভাতা বন্ধ হবে না।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের ভেতরে প্রশিক্ষণ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাকে অবশ্যই পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখযুদ্ধ করার সপক্ষে তিনজন সহযোদ্ধার (ভারতে প্রশিক্ষণ নেওয়া) সাক্ষ্য জোগাড় করতে হবে। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বরের পর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে না। বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গঠিত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গেজেট প্রকাশ বা বাতিল বা এর আগে প্রকাশিত বেসামরিক গেজেট বহাল রাখার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসে ১২ হাজার টাকা ভাতা পান। ঈদ বোনাসসহ বছরে সব মিলিয়ে একজন ভাতা পান ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বছরের পর বছর ধরে জেলা প্রশাসনের তালিকার ভিত্তিতেই ১ লাখ ৯২ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভাতা পাঠানো হতো। কিন্তু এমআইএস সফটওয়্যারে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার পর সংখ্যাটি ২১ হাজার কমে গেছে। গত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ১ লাখ ৭১ হাজার জনকে ভাতা পাঠানো হয়েছে।
২০০২ সাল পর্যন্ত আইন না মেনে সনদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এসব তালিকা যাচাই-বাছাই না করলেও প্রশ্ন রয়েই যাবে। জামুকা আইন অনুযায়ী, জামুকার বৈঠক বা অনুমোদন ছাড়া তালিকা প্রকাশ বা তালিকা থেকে কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। তাই ৪২ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ সমুন্নত রাখতে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ২০০২ সালে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিল আইন করা হয়। এ আইনে বলা আছে, ‘প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন, সনদ ও প্রত্যয়নপত্র প্রদানে এবং জাল ও ভুয়া সনদ ও প্রত্যয়নপত্র বাতিলের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠাবে জামুকা।’
জামুকার প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তায় (চূড়ান্ত লাল বই) বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার পরও এবং জামুকার সুপারিশ ছাড়া যাঁদের নাম ‘বেসামরিক গেজেটে’ প্রকাশিত হয়েছে, তাঁরা প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা কি না, তার যথার্থতা নির্ধারণের জন্য যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বেসামরিক গেজেট বলতে ‘বাংলাদেশ গেজেট’ আকারে প্রকাশিত ‘বেসামরিক গেজেট’, যা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৩ ধরনের প্রমাণকের মধ্যে একটি।

যেভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে
যাচাই-বাছাই করতে উপজেলা বা মহানগর পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হবে। উপজেলা কমিটির সভাপতি হবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলায় যুদ্ধকালীন কমান্ডার বা ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তায় নাম থাকা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যাঁকে জামুকার চেয়ারম্যান মনোনীত করবেন। কমিটির সদস্য হবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলার যুদ্ধকালীন কমান্ডার বা ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তায় অন্তর্ভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যাঁকে স্থানীয় সাংসদ মনোনীত করবেন। আরেকজন সদস্য হবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলায় যুদ্ধকালীন কমান্ডার বা ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তায় অন্তর্ভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যাঁকে জেলা প্রশাসক মনোনীত করবেন। কমিটির সদস্যসচিব হবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি ছুটিতে থাকলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্ব পালন করবেন। একইভাবে মহানগর কমিটির সভাপতি হবেন সংশ্লিষ্ট মহানগর এলাকায় যুদ্ধকালীন কমান্ডার বা ভারতীয় তালিকা বা লাল মুক্তিবার্তায় অন্তর্ভুক্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, যাঁকে মনোনয়ন দেবেন জামুকার চেয়ারম্যান। সদস্য হবেন দুজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সদস্যসচিব হবেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য স্বীকৃত ৩৩টি প্রমাণকের ‘বেসামরিক গেজেট’ ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণকে নাম থাকলে তাঁরা যাচাই-বাছাইয়ের আওতাভুক্ত হবেন না। জামুকা যে তারিখ, স্থান ও সময়ে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পাদন করার জন্য নির্ধারণ করে দেবে, সেই তারিখে সংশ্লিষ্ট যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে কাজটি হবে।
কী কী প্রমাণ লাগবে
জীবিত এবং দেশে অবস্থানরত ব্যক্তিকে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে সহযোদ্ধা সাক্ষী উপস্থাপন এবং দালিলিক প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির সামনে যাচাই-বাছাইয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে। একইভাবে, যাচাই-বাছাইয়ের আওতাভুক্ত মৃত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও তাঁর ওয়ারিশদের একই তথ্য-প্রমাণসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির সামনে যাচাই-বাছাইয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে। কমিটির সদস্যরা যাচাই-বাছাইয়ের আওতাভুক্ত ব্যক্তি বা মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশদের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ সম্পর্কে যেকোনো ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারবেন। একইভাবে, ওই ব্যক্তির সমর্থনে তথ্য-প্রমাণ পরীক্ষা করা বা আগত সহযোদ্ধা বা সহপ্রশিক্ষণ গ্রহীতাকে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে। তবে যাচাই-বাছাই কমিটির আওতাভুক্ত ব্যক্তির সমর্থনে ‘জানি’ বা ‘শুনেছি’ জাতীয় কোনো বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হবে না।

যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা
কমিটি যাচাই-বাছাই শেষ করে তিন ধরনের প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। একটি হচ্ছে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তুত করা তালিকা, আরেকটি দ্বিধাবিভক্ত তালিকা এবং অন্যটি অগ্রহণযোগ্য তালিকা। ‘দ্বিধাবিভক্ত তালিকা’র ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে মতামত প্রদানকারী সদস্য শুধু একটি বাক্যের মাধ্যমে তাঁর যুক্তি উল্লেখ করে স্বাক্ষর করবেন। একইভাবে, বিপক্ষে মতামত প্রদানকারী সদস্য একটি বাক্যের মাধ্যমে তাঁর যুক্তি বা কারণ উল্লেখ করে স্বাক্ষর করবেন। যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করার সময়ই কমিটি তিন ধরনের খসড়া তালিকা প্রস্তুত ও পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স বা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ফলাফল টানিয়ে প্রকাশ করবে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আশা রাখি এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অমুক্তিযোদ্ধারা তালিকা থেকে বাদ যাবে।’

ভিন্নবার্তা ডটকম/এন



আরো




আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  

মাসিক আর্কাইভ