
একেই বলে জবাব দেয়া! একেই বলে অঙ্ক কষে বড় রান তাড়া করে ম্যাচ জেতা! একেই বলে সেঞ্চুরির জবাবে সেঞ্চুরি! দুর্দান্ত কায়দায় ম্যাচ জিতল ফরচুন বরিশাল। সত্যিকার অর্থেই অসাধারণ ব্যাটিং পারফরমেন্স! রাজশাহীর ২২০ রানের জবাবে বরিশাল ২২১। তাও আবার ম্যাচের ১১ বল বাকি রেখে। রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ১০৯ রানের সেঞ্চুরির ইনিংসের জবাবে বরিশালের পারভেজ হোসেন ইমন খেললেন অপরাজিত ১০০ রানের চোখ জুড়ানো ইনিংস। ম্যাচে সবমিলিয়ে ছক্কা মিলল ২৮টি! রানের ফোরায়া ছুটল যেন এই ম্যাচে। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য বরিশালের সামনে এই ম্যাচ জেতা ছাড়া উপায় ছিল না। তেমন ম্যাচেই তারা ২২০ রানের কঠিন চ্যালেঞ্জ জিতে মাঠ ছাড়ল।
বিশাল স্কোর তাড়া করে ম্যাচ জেতার জন্য যেমন শুরুর প্রয়োজন ছিল, বরিশাল ঠিক সেটাই পেল। তামিম ইকবাল ও সাঈফ হাসানের ওপেনিং জুটিতে ৪.৩ ওভারে ৪৪ রান উঠল। তবে ম্যাচ জেতার মন্ত্র পেয়ে গেল বরিশাল পরের জুটিতে। তামিম ইকবাল ও পারভেজ হোসেন ইমনের দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ হলো ১১৭ রান। তাও আবার মাত্র ৪৭ বলে! তামিম ইকবাল ৩৪ বলে হাফসেঞ্চুরি পেলেন। আর অপরপ্রান্তে পারভেজ হোসেন ইমন তখন ব্যাট হাতে ‘ছক্কাবৃষ্টি’ ঝরাচ্ছেন! মাত্র ২৫ বলে হাফসেঞ্চুরি করার পরও ইমনের ব্যাট যেন খাপ খোলা তরবারি। যার ধারে কাটা পড়ছে রাজশাহীর বোলিং লাইনআপ।
বরিশালের ব্যাটসম্যানদের মারের চোটে এলোমেলে হয়ে পড়ে রাজশাহীর বোলিং। ম্যাচে সবমিলিয়ে ১৫ রান অতিরিক্ত খাতে খরচ করে রাজশাহী। যার মধ্যে ১১টি ওয়াইড এবং ১টি নো বল!
তামিম ৩৭ বলে ৫৩ রান তুলে রান আউট হয়ে যখন ফিরছেন তখন ম্যাচ জেতার জন্য বরিশালের চাই ৪০ বলে ৬০ রান। সেই কাজও অতি সহজ করে দিলেন ইমন ও আফিফ হোসেন। রাজশাহীর বোলাররা মুড়িমুড়কির মতো উড়ে যায় ইমনের ব্যাটে। সেঞ্চুরির জন্য ইমনের তখন চাই মাত্র ৪ রান। আনিসুল ইসলাম ইমনের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নিজের সেঞ্চুরি তুলে নিলেন পারভেজ হোসেন ইমন, সেই সঙ্গে দাপুটে কায়দায় ম্যাচ জয়ের উল্লাসে ভাসলেন।
টি-টোয়েন্টির ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে ম্যাচ জেতার নতুন নজির। বিপিএলে এর আগে খুলনা জিতেছিল ২০৬ রান তাড়া করে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
রাজশাহী: ২২০/৭ (২০ ওভারে, নাজমুল হোসেন শান্ত ১০৯, আনিসুল ইসলাম ইমন ৬৯, কামরুল ইসলাম রাব্বী ৪/৪৯)।
বরিশাল: ২২১/২ (১৮.১ ওভারে, তামিম ৫৩, পারভেজ হোসেন ইমন ১০০*, আফিফ ২৬* অতিরিক্ত ১৫)।
ফল: বরিশাল ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: পারভেজ হোসেন ইমন।
ভিন্নবার্তা/এমএসআই