
বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের বাজারে বেশ কিছুদিন ধরেই খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে ভোজ্যতেল বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এ সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বোতলজাত তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়ার পরও বাজারে এই সরবরাহ সংকট কাটেনি। এখনো ঢাকার বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানগুলোতে সয়াবিন তেলের সরবরাহ ঘাটতি দেখা গেছে।
এই ঘাটতিকে কেন্দ্র করে কোনো কোনো মুদি দোকানিকে আবার পুরনো দামের তেলই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়াও কিছু কিছু দোকানে চিনির সরবরাহ ছিল কম। চিনির দামও গত দুই সপ্তাহে কেজিতে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। বর্তমান বাজারে বোতজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়। তবে, খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।
কিন্তু, এখনো রামপুরা, বাড্ডা, সেগুণবাগিচা, শান্তিনগরসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকানেই ১ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। তবে, দুই ও ৫ লিটারের বোতল পাওয়া গেছে অধিকাংশ দোকানে।
শান্তিনগর বাজারে খুচরা বিক্রেতা এনামুল হক জানান, গত বুধবার তেলের নতুন দাম ঘোষণার পরও বাজারে সরবরাহ বাড়েনি। কোম্পানিগুলো নতুন দামের পণ্য না আসা পর্যন্ত স্বাভাবিক অর্ডার নিচ্ছে না।
দোকানিরা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই সরবরাহকারীরা তেল দিচ্ছেন না। কয়েক দফা অর্ডার দিয়ে অল্প পরিমাণ তেল যা দেওয়া হচ্ছে তাতেও দোকানির কমিশন একেবারেই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিভিন্ন মুদি দোকানে। প্রথম সারির ৫টি দোকানের দুটিতে অল্প পরিমাণে এক লিটারের তেলের বোতল পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ নেই। নতুন দামের তেল এখনো আসেনি বলেও জানান তারা।
মো. তাহের নামে সেগুনবাগিচা আবাসিক এলাকার মুদি দোকানি জানান, একদিকে তেলের অর্ডার দিলেও পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ২০০ টাকার একটি তেলের বোতলে খুচরা বিক্রেতার কমিশন কমিয়ে দেড় টাকা করা হয়েছে।
এদিকে তেলের বাজারে অস্থিরতা থাকলেও চড়া দাম দেখা গেছে ডিম ও মুরগির বাজারে। প্রতি ডজন ব্রয়লার মুরগির ডিম গত সপ্তাহের মতোই ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি এলাকাভেদে ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে দেখা গেছে। যা আগের সপ্তাহেও একই ছিল। সোনালি মুরগির দামও গত সপ্তাহের মতোই ৩২০ টাকা থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া, কিছু কিছু সবজির দাম কমতে দেখা গেছে। লম্বা বেগুণ এখনো ১০০ টাকার নিচে পাওয়া না গেলেও ঝিঙার দাম কমে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেপে ৩০ টাকা, দেশি লাউ ৮০-৯০ টাকা থেকে কমে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, কচুর মুখি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, করলা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ছোট পটল ও ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, কাঁচা মরিচের দাম একেবারেই কমে ৮০-১২০ টাকায় নেমে এসেছে। শসার দাম কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় নেমেছে। তবে বরবটি, টমেটো, গাজর এবং কাকরোলের দাম বেশ চড়া।
তবে, পেঁয়াজের দাম খানিকটা কমেছে। ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া প্রতি কেজি পেঁয়াজ এখন ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051