উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব এবং দলের একাধিক সাংগঠনিক সমস্যা তুলে ধরে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি দিয়েছেন ২৩ জন শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতা।
সোমবার তা নিয়েই বৈঠকে বসছে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি।
দলের সভাপতি পদে ফিরতে অনীহা রাহুল গান্ধীর। পরিবারের বাইরে গিয়ে দলকে ভাবতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রিয়াংকাও। তাহলে কে ধরবেন কংগ্রেসের হাল?
কার নেতৃত্বে পথ চলবে ভারতের উপনিবেশ ইতিহাসের সাক্ষী, মহাত্মা-নেহেরুর ১৩৫ বছরের পুরনো এ রাজনৈতিক স্তম্ভ?
দলের এমন সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে মনমোহন সিংহ এবং একে অ্যান্টনির মতো অভিজ্ঞ নেতাদের হাতে দলের গুরুভার তুলে দেয়া নিয়েও চলছে জল্পনা।
সোমবার তা নিয়ে আলোচনায় বসতে চলেছে কংগ্রেস। সু-নেতৃত্বের অভাব এবং দলের সাংগঠনিক সমস্যাগুলো তুলে ধরে এরই মধ্যে সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি দিয়েছেন ২৩ জন শীর্ষস্থানীয় প্রবীণ ও নবীন কংগ্রেস নেতা।
ওই চিঠিই বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হতে চলেছে বলে জানা গেছে। খবর আনন্দবাজার ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
গত বছর লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের দায় নিয়ে কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাহুল। তার পর দলের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন সোনিয়া।
ঠিক ছিল, নতুন সভাপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাবেন সোনিয়া। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে সোনিয়ার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত সভাপতি নির্বাচন করে উঠতে পারেনি কংগ্রেস।
তা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই দলের মধ্যে অসন্তোষ জমা হচ্ছিল। প্রকাশ্যে তা নিয়ে মন্তব্যও করতে দেখা যায় একাধিক নেতাকে।
তার মধ্যেই কপিল সিব্বল, শশী তারুর, গুলাম নবি আজাদ, পৃথ্বীরাজ চৌহান, বিবেক তনখা, আনন্দ শর্মা, মণীশ তিওয়ারি, রাজ বব্বর, অরবিন্দ্র সিংহ লাভলী, সন্দীপ দীক্ষিতসহ দলের শীর্ষস্থানীয় ২৩ জন কংগ্রেস নেতা সম্প্রতি সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখেন।
তাতে বলা হয়েছে, সবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন, বিপদ-আপদে পাশে থাকবেন এবং ২৪ ঘণ্টা দলের মুখ হিসেবে যাকে তুলে ধরা যায়, এমন কাউকে পূর্ণমেয়াদি সভাপতিত্বের জন্য নির্বাচিত করা হোক।
শুধু তাই নয়, ব্লক স্তর থেকে দলের হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে যাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা, সেই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (সিডব্লিউসি)-কেও নির্বাচনের মাধ্যমে ঢেলে সাজার প্রস্তাব দিয়েছেন ওই কংগ্রেস নেতারা।
সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, দলের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাচ্ছে যুব সম্প্রদায়। সু-নেতৃত্বের অভাবে তাদের সঠিক দিশা দেখাতে পারছে না দল।
বিজেপি এবং নরেন্দ্র মোদির উত্থানে কংগ্রেসকে নিয়ে মানুষের মনে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়েছে। সততার সঙ্গে এই বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে দেখা উচিত।
সভাপতি পদে ফেরার কোনো ইচ্ছেই রাহুলের নেই, তা দলের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। তাকে ফেরানো উচিত কিনা, তা নিয়েও দ্বিমত তৈরি হয়েছে।
দলের একটি অংশ আবার সোনিয়াকেই দায়িত্বে রাখার পক্ষপাতি। কিন্তু আগামী দু’বছরে পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সোনিয়া সেই ধকল সইতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকে।
এসব কারণেই গান্ধী পরিবারের বাইরে বেরিয়ে চিন্তাভাবনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত তাদের। তাই মনমোহন সিংহ এবং একে অ্যান্টনির মতো প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেয়ার পক্ষে সওয়াল করছেন তারা।
দু’সপ্তাহ আগেই কংগ্রেস নেতাদের তরফে সোনিয়াকে ওই চিঠি দেয়া হয় বলে জানা যায়। সেসময় বিষয়টি সামনে আনেন বহিষ্কৃত কংগ্রেস নেতা সঞ্জয় ঝা।
প্রায় ১০০ নেতা মিলে সোনিয়াকে চিঠি দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। রাজস্থানে সচিন পাইলট বিদ্রোহ ঘোষণার পর দলের অন্দরের অব্যবস্থা নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন সঞ্জয়।
তার জেরে মুখপাত্রের পদ থেকে সরানো হয় তাকে। এত দিন তার দাবি খারিজ করে আসছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।
তবে এ দিন চিঠির কথা সামনে আসতে টুইটারে শশী থারুর লিখেন, ‘পরিবর্তন নিয়ে আবেগ এবং হৃদয়ের তাড়না না থাকলে, ধীরে ধীরে প্রাণশক্তি কমে যায়। তার ফলে নিচে নামতে নামতে একটা সময় অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যায়। আমরা আসলে অতীতের হাতে বাঁধা পড়ে রয়েছি। অচলতায় আটকে রয়েছি।’
ভিন্নবার্তা/এসআর
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051