প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আজ। বৈঠকে দেশ দুটির মধ্যে নয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। বৈঠকটি বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হয়ে দেড় ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ ৫৫ বছর বন্ধ থাকার পর আজ ফের চালু হতে যাচ্ছে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল চলাচল। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ি সীমান্তের মধ্যকার এ রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ বেলা সাড়ে ১১টায় এক ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে রেলপথটিতে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করবেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুরুতে রুটটি দিয়ে শুধু পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করবে। কয়েক মাসের মধ্যে এখান দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর পরিকল্পনাও করছে দুই দেশের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। উদ্বোধনের পর আজ একটি খালি ওয়াগন চিলাহাটি থেকে হলদিবাড়ি পর্যন্ত যাবে। এজন্য ৩২টি ওয়াগনের একটি ভারতীয় ট্রেন বর্তমানে চিলাহাটি স্টেশনে অবস্থান করছে।
এরই মধ্যে বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ি স্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়েছে। রেলপথটি চালুর জন্য বাংলাদেশে চিলাহাটি থেকে সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার ও ভারতে হলদিবাড়ি থেকে সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রেলপথ সংস্কার হয়েছে।
এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে রেলপথটি চালু হলে বাংলাদেশের মোংলা বন্দর এবং উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশ, নেপাল ও ভুটানের মধ্যকার বাণিজ্যিক কার্যক্রম জোরদার হবে। রাজধানী ঢাকাসহ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ট্রেন চলাচল সম্ভব হবে। এতে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেলের অবদান বাড়বে। এছাড়া কনটেইনার ট্রেন পরিচালনার ফলে রেলওয়ের আয়ও বাড়বে। পর্যটন খাতেও লাভবান হবে বাংলাদেশ।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকা থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এদিকে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে আজ অনুষ্ঠেয় ভার্চুয়াল বৈঠক চলাকালে দুই দেশের মধ্যে নয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি জানান, বৈঠকে পানি বণ্টন, করোনা মোকাবেলায় সহযোগিতা, সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য ঘাটতি, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও রোহিঙ্গা সংকটসহ প্রধান সব দ্বিপক্ষীয় ইস্যু তুলে ধরবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় সহযোগিতার বিষয়টি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে আরো জোরালো ভূমিকা রাখার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানাতে পারে বাংলাদেশ।
ভার্চুয়াল বৈঠক চলাকালে প্রধানমন্ত্রী আগামী বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ভারতের কূটনৈতিক দপ্তরের বরাত দিয়ে সে দেশের সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, এক বছর ধরে দুই দেশের সম্পর্কের যে শীতলতা চলছে, সেটি স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাও থাকবে এ বৈঠকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আজ হাতি সংরক্ষণ, বরিশালে পয়োনিষ্কাশন প্লান্ট স্থাপন, সামাজিক উন্নয়ন, হাইড্রোকার্বন ও কৃষি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার এসব সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করবেন।
ভিন্নবার্তা ডটকম/এন
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051