বগুড়ায় আগামী শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির পর শীত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া অফিস। এদিকে এ জেলায় শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শীতজনিত রোগ বাড়তে শুরু করেছে। সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ১৫ দিনে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শুধু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অন্তত এক হাজার রোগী। সোমবার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে নতুন করে ৬৮ জন ভর্তি হয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকেও শীতজনিত রোগে আক্রান্ত অনেক আসছেন। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, আক্রান্তের হার স্বাভাবিক রয়েছে।
বগুড়া আবহওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, সোমবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বিকাল ৩টায় সর্বোচ্চ ১৭ দশমিক ২ ডিগ্রি ছিল। রোববার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি আরও বলেন, সোমবার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে দূরত্ব কম থাকায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। সোমবার কিছু সময় সূর্য দেখা গেছে। তাই মঙ্গলবার শীতের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। আবার আগামী শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ সাহারুল ইসলাম ও স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রগুলো জানায়, সোমবার দুপুর পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডায়রিয়ার আক্রান্ত ৬৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর সাত দিনে ৪৯৭ জন। গত ১ জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৬২ জন। আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু। এর মধ্যে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৫২, সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬২, সোনাতলায় ৩১, শিবগঞ্জে ১০৭, আদমদীঘিতে ৬৭, দুপচাঁচিয়ায় ১০৬, কাহালুতে ৬১, নন্দীগ্রামে ৪৪, শেরপুরে ১১৭, ধুনটে ৭৪, গাবতলীতে ৬৬ ও শাজাহানপুরে ৪৩ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের অন্য সূত্রগুলো জানায়, সরকারি হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় ৬৮ জন ছাড়াও নিউমোনিয়ায় ১২ জন ভর্তি হয়েছেন। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগে ১৩ জন শিশু ডায়রিয়ায় ও তিনজন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি। মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে একই সময়ে ১১ জন শিশু ডায়রিয়ায় ও চার শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি। শীতজনিত ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় সরকারি দুটি হাসপাতালে বেশি চিকিৎসা নিয়েছেন। মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৩০ জন ও শজিমেক হাসপাতালে ৪৬ জন নিউমোনিয়া রোগী ভর্তি হন।
চিকিৎসকদের মতে- শীতের কারণে বিভিন্ন রোগব্যাধির মধ্যে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়ারিয়া, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, অ্যাজমা, টনসিলাটাইসিস, ব্রঙ্কাইটিস, সাইনোসাইটিস, চর্মরোগ ও বাতসহ বিভিন্ন শীতজনিত রোগ দেখা দেয়। এসব রোগ থেকে বাঁচতে শীত এড়িয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে চলতে হবে।
বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. শফিউল আজম জানান, শীতের সময় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী বাড়লেও তা অতিরিক্ত নয়। এসব রোগে এখন পর্যন্ত কেউ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। জেলার ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও শজিমেক হাসপাতালে অ্যাজমা, সিওপিডিসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী আসেন। এ সময় এসব রোগ থেকে বাঁচতে উষ্ণ পোশাক পরিধান, উষ্ণ পানি পান ও গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের ব্যাপারে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। শিশুদের শরীরে তেল মেখে এমনভাবে কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা যাবে না যাতে ঘেমে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, শীত থেকে বাঁচতে কেউ যেন আগুন জ্বালিয়ে দগ্ধ না হন সে ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।
তিনি জানান, সবাইকে উন্মুক্ত স্থানের বাদুড়ে মুখ দেওয়া খেজুরের রস ও পাখি খাওয়া ফল খেতে নিষেধ করা হচ্ছে। এ থেকে নিপা ভাইরাসের আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সিভিল সার্জন শীতে এসব মেনে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন।
ভিন্নবার্তা/এমএসআই
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051