কোরবানির দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দিনাজপুরে এখনও পাঁচ ভাগের চার ভাগ চামড়াই পড়ে আছে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছে। বাজারে দাম না থাকায় এবং অধিক দামের আশায় লবণজাত করে সেসব চামড়া সংরক্ষণ করে রেখেছেন বলে জানিয়েছে দেশের উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম দিনাজপুরের রামনগর চামড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা।
এদিকে এসব চামড়া ভারতে পাচারের আশঙ্কা থাকলেও এসব চামড়া ভারতে পাচাররোধে দিনাজপুরের হিলিসহ সব সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি।
দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের হিসাবমতে, দিনাজপুর জেলায় এবার প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার পশু কোরবানি দেয়া হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীনুর আলম জানান, জবাইকৃত এসব পশুর মধ্যে ৮৫ হাজার গরু এবং ৪৯ হাজার ছাগল।
দিনাজপুরের রামনগর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের শুক্রবার জানান, কোরবানির প্রায় ২ সপ্তাহ হতে চললেও দিনাজপুরে চামড়া সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ২৪ থেকে ২৫ হাজার। এর মধ্যে ৯ থেকে ১০ হাজার গরু এবং ১৫ হাজার ছাগলের চামড়া। তিনি জানান, ট্যানারি মালিকরা বকেয়া টাকা ঠিকমতো না দেয়ায় দিনাজপুরের অনেক ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে গেছেন। আর আনেকে পুঁজির অভাবে চামড়া সংগ্রহ করতে পারেননি। তিনি জানান, বাজারে দাম না থাকায় অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করে রেখেছেন পরবর্তীতে দাম পাওয়ার আশায়। তিনি জানান, সঠিক সময়ে চামড়া বিক্রি করতে না পারলে চামড়া লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করার জন্য এবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়। সেই পরামর্শ অনুযায়ী হয়তো মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংরক্ষণ করে রেখেছেন। পরবর্তীতে তারা তা বাজারে আনবেন। কিন্তু কোরবানির প্রায় দুই সপ্তাহ হলেও এখনও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বাজারে সেসব সংরক্ষিত চামড়া আনেননি। কেউ কেউ এসব চামড়া গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নিয়ে বিক্রি করছেন। আবার কেউ অধিক দামের আশায় এসব চামড়া রেখে দিয়েছেন।
দিনাজপুরের সিংহভাগ কোরবানির পশুর চামড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বাজারে না আনায় এসব চামড়া ভারতে পাচারের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের তুলনায় ভারতে অপেক্ষাকৃত দাম বেশি থাকায় এই পাচারের আশঙ্কা করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দিনাজপুরের চামড়া ব্যবসায়ীরা।
তবে বিজিবি জানায়, কোরবানির পশুর চামড়া ভারতে পাচাররোধে দিনাজপুরের হিলিসহ সব সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশের চেয়ে ভারতে চামড়ার মূল্য অপেক্ষাকৃত বেশি হওয়ায়, ঈদের দিন থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এ সতর্কতার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে।
এছাড়া সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার লোকজন জানান, চোরাকারবারিরা প্রতি বছর কোরবানির পশুর চামড়া ভারতে পাচারের চেষ্টা করে। কারণ ভারতে চামড়ার মূল্য তুলনামূলক অনেক বেশি। দেশে অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর চামড়ার মূল্য অনেক কম। ফলে হিলি চেকপোস্ট, হাড়িপুকুর, রায়ভাগ, মংলা, নন্দিপুর, ডাঙ্গাপাড়া ও ঘাসুড়িয়া পয়েন্ট ছাড়াও জেলার বিরামপুর ও পাঁচবিবি সীমান্তের পয়েন্টগুলো দিয়ে ভারতে চামড়া পাচারের আশঙ্কা রয়েছে।
বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের ২০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফেরদৌস হাসান টিটো সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে হিলিসহ আশপাশের সীমান্তের চোরাইপথ দিয়ে কোরবানির পশুর চামড়া যাতে কোনোভাবে ভারতে পাচার হতে না পারে, সে ব্যাপারে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।’ তিনি জানান, সীমান্তবর্তী যেসব স্থানে কোরবানির পশুর চামড়ার আড়ত আছে সেসব স্থানগুলোতে নজরে রাখতে বিজিবি ও গোয়েন্দা সদস্যদের নজরদারি বাড়ানোসহ পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থায় ঈদের দিন থেকে ১৫ দিন এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে আরও ১৫ দিন কোরবানির পশুর চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির সতর্কতা অব্যাহত থাকবে।
ভিন্নবার্তা/এসআর
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051