
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : পুলিশের উপস্থিতিতে তেল নিতে জামায়াত নেতা ও পাম্প কর্তৃপক্ষের সাথে উত্তেজনা ও কিলঘুষি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সাংবাদিককে হুমকি দিলেন এমপির পুত্র মোঃ আল মোন্তাছির মৃদুল। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১ ঘটিকায় রৌমারী মেসার্স ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার ভুমি ও রৌমারী থানার অফিসার ইনচাজ ঘটনা স্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
জানা গেছে, দীর্ঘ ১৫ দিন পর মেসার্স ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনের নামে ১৫ হাজার লিটার তেল বরাদ্দ পেয়েছে। এমন খবর ছরিয়ে পড়লে মটরসাইকেল চালকরা আগের দিন বিকাল তিনটা থেকে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে যায়। কিন্তু রৌমারী উপজেলা জামায়াত ইউনিট সভাপতি মাহবুব আলমসহ কয়েকজন নেতা এসে সরকারি নিয়মনিতির তোয়াক্কা না করে লাইনে না দাড়িয়ে তেল নেয়ার জন্য ম্যানেজার শাহজামালের নিকট প্রস্তাব দেন। এসময় পাম্পে‘র ম্যানেজার তার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। এনিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে দু‘পক্ষের মাঝে তুমুল কিলঘুষির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন, সহকারী কমিশনার ভুমি রাফিউর রহমান ও রৌমারী থানার অফিসার ইনচাজ কাওসার আলীসহ অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে জামায়াতের উপজেলা আমীর হায়দার আলী, জামায়াতের ইউনিট সভাপতি মাহবুব আলমের নেতৃত্বে কয়েকজন জামায়াত নেতাসহ বিষয়টি মিমাংশার জন্য ম্যানেজারের নিকট যায়। দু’পক্ষের আলোচনার এক পর্যায়ে এমপির পুত্র মৃদুল ও জামায়াতের ওয়ার্ড ইউনিট সভাপতি মাহবুব আলম সাংবাদিকরা প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, সাংবাদিকরা আমার নামে ভিডিও ভাইরাল করেছে। সঠিক প্রমান দিতে না পারলে, তাকে মাঠ থেকে যেতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি প্রদর্শন করেন।
ম্যানেজার শাহজাহান জানান, জামায়াত নেতা মাহবুব আমার দিকে তেরে এসে আক্রোস মূলক কথা বলেন এবং মারতে এগিয়ে আসে।পরে জনগনের তোপের মুখে তিনি আমার নিকট আসতে পারেনি। এক প্রশ্নের জবাবে মারতে আসার কারন জানতে চাইলে, তিনি বলেন,লাইন ছাড়া সে তেল চায়। না দেওয়ার কারণে সে ক্ষিপ্ত হয়ে থাকে। তখন আমি বলি, মালিকের সাথে কথা বলেন।
এমপির পুত্র মোন্তাছির মৃদুল বলেন, আমি তাকে হুমকি দেইনি তিনি বলেন, তারা সাংবাদিক যে, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিডিও প্রকাশ করেছে, এর এভিডেন্স দিয়ে এখান থেকে বেড়িয়ে যাবে। তার আগে এখান থেকে যেতে পারবে না।
ওয়ার্ড জামায়াত ইউনিট সভাপতি মাহবুব আলম বলেন, রাত ১১ টা পর্যন্ত ফুয়েল কার্ড নেয়ার জন্য ব্যস্ত ছিলাম। পরে হাশেম মাষ্টারের বাড়িতে যাই এবং বলি আমরাতো লাইনে দাড়াতে পারবো না। আমাদের তেল গুলি যদি আলাদা ভাবে দিতে পারেন, তাহলে ভালো হয়। পরে হাশেম মাষ্টার বলেন, আমি এভাবে দিতে পারবো না। অথচ ফিলিং মালিকগন দীর্ঘদিন থেকে তেল বিতরণে নানা অনিয়ম দুর্নীতি করে আসতে। আমরা এর প্রতিবাদ করার জন্য পাম্পে গিয়েছিলাম।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন বলেন, সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছে মাত্র। পরে আমরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়েছে।
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051