মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের রৌমারীতে অসময়ে নদনদীর পানি বৃদ্ধি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এর ফলে শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি, শতশত একর ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে গেছে।
রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী ইউনিয়নের হবিগঞ্জ, গেন্দার আলগা, সোনাপুর, সুখের বাতি, ঘুঘুমারী, পাখিউড়া ও খেদাইমারী গ্রামজুড়ে প্রায় আট কিলোমিটার নদীপথজুড়ে ভাঙন চলছে। বছরের পর বছর নদীভাঙনের কারণে অনেক গ্রাম এখন শুধু নামেই টিকে আছে—বাস্তবে সেগুলো নদীগর্ভে বিলীন।
বসতবাড়ি ও জমিজিরাত হারিয়ে অনেক পরিবার এখন আশ্রয় নিয়েছে সরকারি রাস্তার পাশে, অন্যের ভিটায় কিংবা শহরের বস্তিতে। কেউ কেউ ভাঙন সহ্য করতে না পেরে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
সোনাপুর গ্রামের সেলিম মিয়া (৭০), জহর আলী, সায়েদ মাস্টার, কবির, রুহুল, গুলজার, হোসেন আলী ও সিরাজুলসহ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি জানান, “মাত্র পাঁচ বছর আগেও নদী আমাদের গ্রাম থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ছিল। এখন সেই জায়গাটা নদীর মাঝখানে।”
তাদের অভিযোগ, সরকারি কোনো কার্যকর নদীশাসন প্রকল্প না থাকায় চরশৌলমারী ও গেন্দার আলগা ইউনিয়নের মানুষ প্রতিবছর ভাঙনে সর্বস্ব হারাচ্ছে।
এলাকাবাসী আরও অভিযোগ করেন, কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সাম্প্রতিক সময়ে জরুরি ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিলেও সময়মতো ও সঠিকভাবে কাজ না করায় কোনো সুফল মিলছে না। ফলে নদী গিলে নিচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম।
স্থানীয়দের দাবি—স্থায়ী বাঁধ বা পাড় নির্মাণের মাধ্যমে রৌমারী উপজেলার উত্তরাঞ্চলীয় ইউনিয়নগুলোকে নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে হব।
Editor: Rumana Jaman Shachi
Raipura House (2nd Floor), 5/A, Outer Circular Road
West Malibag, Dhaka-1217
Communication
E-mail: vinnabarta@gmail.com
Phone:+8802222220051